৪৩ কোটি টাকার সেতু নির্মাণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নৌপথ

নিউজটি শেয়ার লাইক দিন

তরিকুল ইসলাম মিঠু যশোর প্রতিনিধক: ৪৩ কোটি টাকা মূল্যের অপরিকল্পিত নয়টি সেতু নির্মাণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নৌ-পথ।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন (বিআইডব্লিউটিএ) প্রকৌশলী অধিদপ্তর সর্বশেষ ১৪ই সেপ্টেম্বর চিঠি দিলেও কর্ণপাত করেননি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। শুধু এলজিডিকে নয়। সংস্থাটি জেলা প্রশাসকসহ আরো ৮ টি দপ্তরকে এ চিঠি দিয়ে এ বিষয়ে অবগতির করেছেন এবং এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। সংস্থাটির গাফিলতের কারণে এই বিপুল অঙ্কের অর্থে তৈরি করা নয়টি সেতু নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ভাঙ্গা হতে পারে এমনটি জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিএ এর খুলনার পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ পারভেজ।

https://www.novanews24.com/wp-content/uploads/2023/09/IMG-20230924-WA0010.jpg
যশোর ভৈরব নদে দায়তলায় নির্মিতব্য সেতু

মাসুদ পারভেজ যুক্ত করে বলেন, যশোরে সাতটি নদনদীতে আমাদের দপ্তরের কোন ধরনের ছাড়পত্র ছাড়াই ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় সেতুগুলো নির্মাণ করছে এলজিইডি। অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা এ সেতু গুলো সংকীর্ণতা ও উচ্চতাসহ নানা বিষয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি জানিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরকে (এলজিইডি) দফায় দফায় চিঠি দিলেও কাজ হয়নি। তাই উপায়ান্ত না পেয়ে এসব চিঠি আরো সংশ্লিষ্ট ৮ টি দপ্তরকে দেয়া হয়েছে। সেতুগুলোর নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৪৩ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার টেকারঘাট এলাকায় টেকা নদীর ওপর পুরোনো সেতু ভেঙে সেই জায়গায় নতুন সেতু নির্মাণ। একই উপজেলার হরিদাসকাটি ইউনিয়নে মুক্তেশ্বরী নদীর দেড় কিলোমিটারের মধ্যে দু’টি নতুন সেতু নির্মাণ। এর মধ্যে সুবলকাঠি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। হাজরাইল সেতুর নির্মাণ। দু’টি সেতু নির্মাণ করতে মুক্তেশ্বরী নদীতে মাটির বাঁধ দেওয়া হয়েছে। একই উপজেলার নেহালপুর এলাকায় শ্রী নদীর ওপর সেতু নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। মনিরামপুর ও চিনাটোলা এলাকায় হরিহর নদের ওপর পুরোনো সেতু ভেঙে দু’টি নতুন সেতু নির্মাণ। যশোর সদর উপজেলার দাইতলা এবং বাঘারপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানতলায় ভৈরব নদের ওপর নির্মিত পুরোনো দু’টি সেতু ভেঙে নতুন সেতু নির্মাণ। বাঘারপাড়া উপজেলার খাজুরা ও সীমাখালীতে চিত্রা নদীর ওপর নতুন সেতু নির্মাণ। শার্শা উপজেলায় বেতনা নদীর এক কিলোমিটারের দূরত্বের মধ্যে কাজীরবেড় ইসলামপুর মোড়ে ও শেয়ালঘোনা গাতিপাড়া এবং নিশ্চিন্তপুর গ্রামের সংযোগস্থলে দু’টি সেতু নির্মাণ। সেতুগুলোর উচ্চতা কম হওয়ায় নদীতে ছোট ও মাঝারি আকারের নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে। এমনকি এসব সেতুর কারনে এলাকায় বর্ষা মৌসুমে পানিতে প্লাবিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

সূত্রগুলো আরো জানিয়েছে, সেতুগুলোর ডিজাইন করার সময়ে ও নির্মাণের সময়ে অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন (বিআইডব্লিউটিএ) প্রকৌশলী অধিদপ্তরের কোন শর্ত মানা হয়নি। সেতু নির্মাণের শর্ত রয়েছে পানির স্তর থেকে গার্ডারের নিচ পর্যন্ত ১৬ থেকে ২৫ ফুট। কিন্তু এই সেতুগুলোর উচ্চতা ৪ দশমিক ৫৯ ফুট থেকে ১১ দশমিক ৫০ ফুট পর্যন্ত।

 

ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলনের উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, যশোর বাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পরে এই অঞ্চলের “নদ-নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে নদী সংস্কার করা হচ্ছে। কিন্তু অপরিকল্পি সেতু নির্মাণে সেটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই কোনোভাবেই যেন নৌ-প্রবাহ বন্ধ হয়ে না যায় তার জোর দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট।

 

ছাড়পত্র ছাড়াই সেতু নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে এলজিইডির যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন,বিআইডব্লিউটিএ ছাড়পত্রের নেওয়া হয়নি এটা সঠিক। তবে তাদের শর্ত সব জায়গায় প্রযোজ্য নয়। যেখানে যেমন প্রযোজ্য, আমরা সেই অনুপাতে সেতু নির্মাণ করেছি বলে তিনি জানান।

 

নৌ-সওপ পশ্চিম ব-দ্বীপ শাখা, বাঅনৌপক, খুলনার (বিআইডব্লিউটিএ) এর পরিচালক (খুলনা অঞ্চল) মাসুদ পারভেজের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ব্রিজগুলো নির্মাণের আগেই তাদেরকে যথার্থ নিয়ম মেনেই ব্রিজ তৈরির নির্দেশনা দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এগুলো না মানার কারণে এখন এই অঞ্চলের নৌ-পথগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাই ব্রিজগুলো ভেঙে ফেলে নতুন করে বিআইডব্লিউটিএ এর শর্ত মেনে ডিজাইন তৈরি করে ব্রিজ নির্মাণ করতে হবে। না হলে অঞ্চলে নদন-দীর পানি প্রবাহ ও নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।

Comments (0)

Your email address will not be published. Required fields are marked *