যশোর সরকারী সার্ভে ইন্সটিটিউটে প্রবেশ করতে মই 

নিউজটি শেয়ার লাইক দিন

তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর প্রতিবেদক: যশোর সরকারী সার্ভে ইন্সটিটিউট মনিরামপুর যশোরের মূল ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে হলে লাগে মই। বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এমনকি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যেও।

বুধবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মনিরামপুর পৌরসভার মধ্যে পাকোড়া নামক স্থানে মহাসড়কের পাশে বড় দৃষ্টিনন্দন গেটে লেখা আছে যশোর সরকারী সার্ভে ইনস্টিটিউট, মনিরামপুর, যশোর। দৃষ্টিনন্দন গেটের সামনেই পানি প্রবাহের বড় ড্রেন টি খালের রূপ নিয়েছে। তার উপর দিয়ে ইনস্টিটিউটে প্রবেশের জন্য মই তৈরি করে দেয়া হয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়,যশোরের মণিরামপুরে নির্মিত ভূমি জরিপ ইনস্টিটিউট (Land Survey Institute) বা সরকারী সার্ভে ইনস্টিটিউটটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যদিও সারা বাংলাদেশে আরও তিনটা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এগুলো হলো রাজশাহী সার্ভে ইনস্টিটিউট, কুমিল্লা সার্ভে ইন্সটিটিউট ও বরগুনা সার্ভে ইনস্টিটিউট,ষ।

যশোর মনিরামপুর সার্ভে ইনস্টিটিউটি যশোর থেকে ২০ কিলোমিটার দক্ষিনে মনিরামপুর পৌরসভার ১২ নম্বর হাকাবো ও ৯৩ নাম্বার গাংড়া মৌজার প্রায় ৫ একর জমির উপর প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত। ইনস্টিটিউট কেন্দ্রের ভিতরে ৫ তলা প্রশাসনিক ভবন, অ্যাকাডেমিক ভবন, ওয়ার্কশপ ও মাল্টিপারপাস হল, ছাত্র হোস্টেল, ছাত্রী হোস্টেল, টিচার্স, স্টাফ ডরমেটরি ভবন ও একটি মসজিদসহ ৯ টি আধুনিক মানের ভবন তৈরি করা হয়েছে। ইনস্টিটিউট টি মূলতঃ সার্ভে/ভূমি জরিপ বিষয়ক ডিপ্লোমা ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।  প্রতিষ্ঠানটিতে একসাথে প্রায় ৩০০ জন শিক্ষার্থী কোর্স বা পাঠ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ​এটি চালু হওয়ার ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সহ সারাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ভূমি জরিপ সংক্রান্ত বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা ও উচ্চতর প্রশিক্ষণের বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এখানে কোর্স শেষে শিক্ষার্থীরা সরকারি ও বেসরকারি খাতে ভূমিসংক্রান্ত কর্মসংস্থান এবং আত্মকর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

হারুন আর রশিদ নামে এক শিক্ষার্থী জানান, তিনি পাবনা থেকে এখানে এসে লেখাপড়া করছেন। তবে মূল ফটকের সামনে নালা বা ড্রেন থাকাতে মই দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময়েই পা পিছলে পড়েও যায়। শুধু তিনি নন। শিক্ষক এবং অন্যান্য শিক্ষার্থীদের প্রায়ই শো একই অবস্থাতে পড়তে হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক শিক্ষার্থী জানান, এত বড় প্রতিষ্ঠানে মাত্র ৫৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তার মধ্যে কয়েক জন অনুপস্থিত থাকে। শিক্ষক ও সংকট রয়েছে। যে কারণে ঠিকঠাক ভাবে ক্লাস হয় না। তাছাড়া প্রধান গেটের সামনে বড় ধরনের নালাটি খালে পরিণত হয়েছে। সেই খাল পার হতে হয় মই দিয়ে। সত্যি এটা বিস্ময়ের ব্যাপার। এখালের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রতিষ্ঠানের সামনে এমন অবস্থা হলেও এটি মেরামতে কর্তৃপক্ষের কোন গরজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না ।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আলামিন জানান, সার্ভে ইনস্টিটিউটের গেটের সামনে খালটি মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। হঠাৎ করে যদি কোন শিক্ষক বা শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল,ষ বা বাইসাইকেল নিয়ে চালিয়ে দেয়। তাহলে নির্ঘাত খাদে পড়ে তার মৃত্যু হবে। এটি কাঠের মই দিয়ে পার হওয়ার সময়  শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রায় দুর্ঘটনায় পড়ছে। তাই এটি দ্রুত বুঝিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করা দরকার। তা না হলে যে কোন মুহুর্তে বড় ধরনের দূর্ঘনার শষ্কা রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. এম.এম নাজমুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো পর্যন্ত বিল্ডিং আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেনি। বিল্ডিং গুলাতে এখনো কিছু পরিমাণের কাজ বাকি রয়েছে। তাছাড়া রাস্তা নির্মাণের জন্য নতুন টেন্ডার হবে। এরপরই সামনের ফটোক ও রাস্তা সংস্কার হবে। তার আগ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও আমাদের এভাবেই চলাচল করতে হবে বলে তিনি জানান।

Comments (0)

Your email address will not be published. Required fields are marked *