স্টাফ রিপোর্টার: যশোর সদর উপজেলার ৯নং আরবপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড বি-পতেঙ্গালী চার বছরে বয়সের ছোট্ট শিশু কন্যা সানজিদা জান্নাত মিষ্টির হত্যাকারী আঞ্জুয়ারা খাতুন (৪০) স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী দিয়েছে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের নিকটে।
ঘাতক ঐ নারী জানিয়েছে,আঞ্জুয়ারা খাতুন ও তার কথিত স্বামী রেজাউল ওরফে রেজা’র বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকান্ডের বিষয়ে মৃত সানজিদা জান্নাত মিষ্টির মা শরিফা খাতুন অবগত থাকায় এবং বিভিন্ন সময়ে আঞ্জুয়ারার বাকশক্তিহীন প্রতিবন্ধি ছেলে অপূর্ব হাসান (৭) এর সাথে সানজিদা জান্নাত মিষ্টির হাতাহাতি করার সময় আঞ্জুয়ারার ছেলেকে পাগল বলে গালি দেওয়ায় আঞ্জুয়ারা তার স্বামী রেজাউল ওরফে রেজাসহ অজ্ঞাত ব্যক্তির পরামর্শে আপেল খাওয়ার প্রলোভন দিয়ে তার বিল্ডিং ঘরে ডেকে নিয়ে শনিবার দুপুর একটা থেকে চারটার মধ্যে তার নিজের ব্রা ও গামছা দ্বারা হাত-পা বেঁধে ওড়না দ্বারা গলায় ফাঁস দিয়ে এবং মুখের মধ্যে ওড়না ঢুকিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যার রহস্য গোপন করাতে মরদেহ তার বাড়ির সিড়িঘরের নীচে রাখা চালের ড্রামের মধ্যে রেখে চাল দিয়ে ঢেকে রাখে।
এরপর ঘাতক আঞ্জুয়ারা ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সানজিদার পরিবারের লোকজনদেরকে বাড়ীর পাশে পুকুরে তল্লাশী করার পরামর্শ দেয় এবং বিভিন্ন জায়গায় তাদের সাথেই খোজাখুজি করে।
বিকালে অনেক খোঁজাখুঁজি করার পরেও সানজিদা জান্নাত মিষ্টিকে খুঁজে না পেয়ে নিহত সানজিদা জান্নাত মিষ্টির মা শরিফা খাতুন শনিবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে যশোর কোতোয়ালি থানা একটা সাধারণ ডায়েরি করেন।
বিষয়টি স্পর্শকতার হওয়ায় যশোরের পুলিশ সুপার যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটা চৌকস টিম ও থানা পুলিশের সদস্যদের ঘটনাস্থলে অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে যশোর গোয়েন্দা পুলিশের চৌকস টিমের সদস্যদের আনজুয়ারা খাতুনকে সন্দেহ হয়। এরপর তাকে কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করার একপর্যায়ে সে শিশুটিকে হত্যা করে চালের ড্রামে লুকিয়ে রাখার বিষয়টি বিষয়টি স্বীকার করেন।
পরে রাত ১১টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিসহ শত শত জনতা ও আঞ্জুয়ারাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গেলে ঘাতক আঞ্জুয়ারা খাতুন নিজে পাকা বসত বাড়ীর সিড়ি ঘরের নীচে রাখা টিনের তৈরী চালের ড্রামের মধ্যে চালের নীচ থেকে নিখোঁজ সানজিদা জান্নাত মিষ্টির মৃতদেহ বের করে দেন।
ঘাতক আঞ্জুয়ারা খাতুন যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বেনাপোল পুটখালী উত্তরপাড়া এলাকার আকবর আলীর মেয়ে ও রেজাউল ওরফে রেজার স্ত্রী। তারা বর্তমানে যশোর সদর উপজেলার বি-পতেঙ্গালী গ্রামে বসবাস করতেন।
যশোর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রুপণ কুমার সরকার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক আঞ্জুয়ারা খাতুন পূর্বের শত্রুতা জের ধরে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে অন্য কোন কারণ আছে কিনা সে বিষয়ে অধিকতার তদন্ত চলছে। ঘাতক আঞ্জুয়ারা কে রোববার দুপুরে আদালতে হস্তান্তর করলে আদালত তাকে জেলে প্রেরণ করেছেন।