বেনাপোলে পচনশীল পণ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি বৃদ্ধি: সামুদ্রিক মাছের চালানে চিংড়ি মাছ

নিউজটি শেয়ার লাইক দিন

বেনাপোল বন্দরে পচনশীল পণ্যে শুভঙ্করের ফাঁকি বৃদ্ধি: সামুদ্রিক মাছের চালানে চিংড়ি মাছ

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের বেনাপোল বন্দরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। যেন কোনক্রমেই এই চক্রটির লাগাম টানতে পারছে না কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি কিছু অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা ও বন্দর কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে ম্যানেজ করে মিথ্যে ঘোষণা দিয়ে ভারত থেকে দেশের ভেতরে মালামাল আমদানি করছে। চক্রটি কখনো পচনশীল কাঁচামালের ট্রাকে শাড়ি থ্রি পিস, কখনো শুটকি মাছের ভিতরে চিংড়ি মাছ, পানের ঢোপের ভিতরে মাদকদ্রব্য মত অবৈধ এসব মালামাল নিয়ে আসছে দেশের ভিতরে। এসব অবৈধ কাজ করে তাদের মধ্যে অনেকেই স্বল্প সময়ের মধ্যে হয়েছে কোটিপতিও। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সাইকেল মিস্ত্রি থেকে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, আবার কেউ সাধারণ দোকানদার থেকে হয়েছে আমদানি কারক ও সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী, আবার কেউ হয়েছেন ফুটপাতের চানাচুর বিক্রেতা থেকে কোটি কোটি টাকার মালিক। আবার কেউ কেউ অন্যের অফিসের বর্ডার ম্যান বা অফিসে সাধারণ কর্মচারী থেকে হয়েছে কোটি কোটি টাকার মালিক। এসব ব্যক্তিরা রাতারাত্রি কোটি কোটি টাকার মালিকও বিলাসবহুল জীবন দেখে বন্দর এলাকায় চায়ের দোকান থেকে অফিস আদালতে কানাঘুষা হয়ে থাকে। তবে কে শোনে কার কথা। এ বিষয়ে যাদের শোনা বা জানার বা দেখভালের কথা তাদের চোখ থাকতেও অন্ধ। অনেকের বলতে শোনা যায় আইনের লোকেদের চোখে নাকি কালো চশমা। তাই তারা সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করেন। চক্রটি সব পক্ষকে বিশেষভাবে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে বন্দরে এলাকায় এর আমরা মা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে।

বন্দরের বিশেষ সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব চক্রের রয়েছে একাধিক লাইসেন্স। তাছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যবসায়ীর লাইসেন্স ভাড়া নিয়েও চালায় এসব অবৈধ ব্যবসা। তবে বিধিবাম খুব কদাচিৎ দুই একটা চালান ধরা পড়ে। অথচ বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিনিয়ত কোটি কোটি টাকার মালামাল পাচার হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। চক্রের মূল হতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তাছাড়া অপরাধীদের বিরুদ্ধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও কঠিন কোন শাস্তি মূলক ব্যবস্থা না থাকায় তারা বন্দর এলাকায় আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

শনিবার বেনাপোল বন্দরের ৩১ টন মাছের ট্রাকে চিংড়ি আমদানী করে সরকারের ১৫ লক্ষ টাকার রাজস্ব ফাকি দেওয়া ঘটনায় একটি ট্রাক জব্দ করেছেন বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

 

বেনাপোল কাস্টম সূত্র থেকে জানা গেছে, বেনাপোল বন্দরে ৩১ টন মাছের একটি চালানে চিংড়ি মাছ আমদানি করা হয়। পন্য চালানটির আমদানিকারক খুলনার বুলবুল ট্রেডার্স। পন্য চালানটি খালাসের দায়িত্বে ছিল বেনাপোলের সিএন্ডএফ এজেন্ট শহিদ ট্রেডিং কর্পোরেশন। পন্য চালানটির ভারতীয় ট্রাক নং ডই ২৩ বা ৮৩০৩

আমদানিকৃত মাছের কাস্টম বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৩৭৩৮১ তারিখ; ২৯শে এপ্রিল২৪। যার বিন নম্বর ০০২০৭৩৪০৬। মাছের চালানটিতে ঘোষনা দেওয়া হয়, ৮৭ কার্টুন মাছ। যার ঘোষিত নীট ওজন ৫ হাজার ১৭ কেজি, কিন্তু কাস্টমস কর্তৃপক্ষ মিথ্যা ঘোষণায়, ১১ প্যাকেজ মাছ বেশি পায়। আকারে বড় ও অতিরিক্ত ৪৭০ কেজি চিংড়ি মাছ আটক করেন। আমদানিকৃত চিড় মাছের চালানে ১৫ লক্ষ টাকার রাজস্ব ফাকি দেওয়া হচ্ছিল বলে জানায় কাস্টমার কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি নিয়ে বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মো: আব্দুল হাকিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গোপন সাংবাদের মাধ্যমে জানতে পারি ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে একটি শুটকি মাছের চালানে দামি চিংড়ি মাছ নিয়ে আসা হয়েছে।  সাথে সাথে বন্দরের ভিতরে গিয়ে একদল কাস্টমস কর্মকর্তা আমদানি চালান টা কাস্টমসের হেফাজতে নেয়। পরে ওই ট্রাকটিতে তল্লাশি করে আমদানি করা একটি সামুদ্রিক মাছের চালানের মধ্যে ঘোষণা বহির্ভূত অতিরিক্ত ১১ প্যাকেজে ৪৭০ কেজি বড় আকারের চিড় মাছ জব্দ করা হয়। এসব মাছের শুল্ক মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আমদানিকারক ও সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

Comments (0)

Your email address will not be published. Required fields are marked *