নিজস্ব প্রতিবেদক: বাওড় দখলের অনুমতি নিতে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করা হয়েছে। বিক্ষোভ শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এর নিকটে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
রোববার (৮ই নভেম্বর) বেলা ১১ টার দিকে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মনিরামপুর উপজেলার খাটুরা বাওড় মৎস্যজীবী সমিতির ব্যানারে এ বিক্ষোভ কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
নিজেকে খাটুরা বাওড়ের মৎস্যজীবী সমিতির কোষাধ্যক্ষ পরিচয় দিয়ে আলতাফ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খাটুরা বাওড়টি ফ্যাসিস্ট চেয়ারম্যান দখল করে মাছ চাষ করছে। এতে প্রকৃত মৎস্য জীবিরা মৎস্য শিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর ফলে মৎস্যজীবীরা দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে। তিনি আরো বলেন, পার্শুর্বতী ৫টি গ্রামের ১০১ জন ভৃমিহীন নিয়ে খাটুরা বাওড় মৎস্য জীবি সমিতি নামে একটি সমিতি গঠন করা হয় । সমিতির সদসারা কমিটি গঠনের মাধ্যামে বাওড় পরিচালনা ও মাছ চাষ করে আসছে। কিন্তু ২ই সেপ্টেম্বর ২০১৪ এ অনুমোদিত কমিটির পরে আর কোন নিয়মিত কমিটি না থাকায় তৎকালিন সংসদ সদসোর প্রস্তাব অনুযায়ী ২৩ই নভেম্বর ২০১৭ তারিখে তৎকালীন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার গ্রামের ১০ জনকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট একটি এডহক কমিটি গঠন করেন এবং তাদেরকে ছয় মাসের জন্য কার্যাবলী সম্পাদন করার জন্য অনুমোদন দেন। ওই কমিটির মেয়াদ ২০শে মে ২০১৮ তারিখে শেষ হয়ে। এরপর ১৫ই মাচ ২০২০ খাটুরা বাওড়সহু আরো সাতটি বাওড়ের টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারার প্রদান করা হয়। ৮টি বাওড়ের পক্ষে নওশের আলী নামে একজন মৎস্যজীবী বাদি হয়ে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন। এর ফলে বাওডটি তৎকালীন সংসদ সদস্যের অনুকূলে থেকে যায়।
পরবতীতে সমিতির সস্যরা একত্রিত হয়ে ৮০ জনের উপস্থিতিতে রেজুলেশনের মাধ্যমে ১৪ই মে ২৪ তারিখে ৯ সদস্য বিশিষ্ঠ একটি কমিটি গঠন করে। স্থানীয় সংসদ সদস্য সমিতির সদস্যদের সাথে আলাপ করে ২০শে মে ২০২৪ তারিখে উক্ত কমিটি অনুমোদন দেন। সদসারা হত দরিদ্র হওয়ায় স্থানীয় ভাবে তাদের সহযোগিতার জন্য সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের আর্থিক সহযোগিতায় মৎস্য চাষ শুরু হয়।
৫ই আগস্টের পর বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক মকবুলের সহযোগিতার বাওড় দখল নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ দখলের প্রতিবাদে আমি খাটুরা মৎস্যজীবী সমিতির পক্ষে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে গেলেও তারা বিষয়টি কোন ভাবেই আমলে নিচ্ছে না। এ সময়ে তার সমন্বয়ে শতাধিক নারী-পুরুষ জেলা প্রশাসকের সামনে বিভিন্ন প্লাকার্ড ও বিষের বোতল হাতে নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। স্লোগানের মধ্যে বিষের বোতল হাতে কয়েকজনকে হাসতেও দেখা যায়।