অনৈতিক মেলামেশা দেখে ফেলায় কেশবপুরে হত্যা করা হয় স্বামী-স্ত্রীকে

নিউজটি শেয়ার লাইক দিন

তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর প্রতিবেদক: অনৈতিক মেলামেশা দেখে ফেলায় যশোরেরকেশবপুরে হত্যা করা হয় স্বামী আলেক ও তার স্ত্রী মাজেদাকে

মঙ্গলবার দুপুরে যশোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইমেন অপারেশন) মিরাজুল ইসলাম। এ ঘটনায় ঘাতক মোস্তফা কামাল (৪৫) ও তার পরোকিয়া প্রেমিক জেসমিন বেগম (৩৮)কে আটক করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানান পুলিশ সুপার।

গ্রেফতার হওয়া জেসমিন কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী সরদারপাড়া এলাকার নুর ইসলাম সরদারের স্ত্রী এবং তার পরকীয়া প্রেমিক মোস্তফা কামাল একই এলাকার মৃত কেসমত সরদারের ছেলে।

 

পুলিশ সুপার জানান, জেলার কেশবপুর উপজেলার মাগুরখালী গ্রামের জোড়া হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করে ঘাতক মোস্তফা কামাল ও তার পরোকিয়া প্রেমিক জেসমিন বেগমকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি এবং হত্যাকাণ্ডের আলামত একটি কাঁচি উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি বলেন,গত ৩১ অক্টোবর বিকাল ৫:৩০ মিনিটে কেশবপুরের ব্রাক্ষনডাঙ্গা গ্রামের প্রভাত বিশ্বাসের ধানী জমিতে সেচ মেশিনের পানির ড্রেনে অজ্ঞাতনামা দুই নারী-পুরুষের অর্ধগলিত লাশ পাওয়াপ যায়। স্থানীয়রা থানা পুলিশকে সংবাদ প্রদান করলে কোশবপুর থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে যায় এবং লাশ দু’টির পরিচয় সনাক্ত করেন। পরবতীর্তে ভিকটিম দুইজনের মেয়ে সাবিনা খাতুন বাদী হয়ে থানাতে এজাহার দায়ের করলে কেবপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম অনুসন্ধান করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে। গত ২ই নভেম্বরে হত্যাকান্ডের সাথে সরাসরি জড়িত জেসমিন বেগম (৩৮) কে গ্রেফতার করেন। ওই নারী অভয়নগর থানার আকিজ জুট মিলে শ্রমিকের কাজ করেন। নিহত মাজেদা ও তার সাথে একই মিলে কাজ করতেন। গত ৩০শে অক্টোবর (শুক্রবার) মিল বন্ধ ছিল। সকালে উঠে বাড়ির সব কাজ শেষ করে জেসমিন বস্তা আর কাচি নিয়ে মাজেদার সাথে মাঠে ঘাস কাটতে যায়। মাঠে যাওয়ার সময় মাজেদার স্বামী আলেক নুর ইসলাম ক্ষেতে ঘাস লাগাচ্ছিল।  তার একটু সামনে গিয়ে দেখে মোস্তফা তার ক্ষেতে কপির চারা লাগাচ্ছে। সে সময় মোস্তফার সাথে জেসমিনের আবার দেখা হয়। মোস্তফার সাথে তার ৪ থেকে ৫ মাস ধরে অনৈতিক সম্পর্ক চলছিল। জেসমিনা-মোস্তফা অনৈতিক খারাপ কাজ শুরু করেল দুর থেকে মাজেদা দেখতে পেয়ে জেসমিনের নাম ধরে ডাক দেয়। মোস্তফা মাজেদাকে দেখে খারাপ কাজ বন্ধ করে উঠে পড়ে। বিষয়টি মাজেদা এলাকায় প্রচার করতে পারে এই আশঙ্কা তৈরি হয় মোস্তফা-জেসমিনের মধ্যে। এরপর তারা মাজেদা কে হত্যার পরিকল্পনা করে। জেসমিন ও মোস্তফা মাজেদাকে তার স্বামী আলেককে কলমি শাক তোলার কথা বলে ঘেরের পাশে নিয়ে যায়। আলেক ও মাজেদা সামনে যেতে থাকে। আর জেসমিন এবং মোস্তফা পিছনে পিছনে যেতে থাকে। তালতলার মাছের ভেড়ির কাছে পৌছালে মোস্তফা তার হাতে থাকা পাসনি দিয়ে আলেকের বোগলের নিচে আঘাত করে এবং মাথায় বাড়ি দেয়। আর জেসমিন মাজেদার উড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে কলাগাছের মধ্যে ফেলে দেই। মোস্তফা পাসনি দিয়ে আঘাত করে আলেককে পুরাতন সেলো মেশিনের পানি যাওয়ার ড্রেনের মধ্যে ফেলে দেয়। আলেক শারিরীক প্রতিবন্দী হওয়ায় আর উঠতে পারেনি। মাজেদাকে গলায় ফাঁস দেওয়ার পরও নিঃশ্বাস নিতে দেখে মোস্তফা আবার কাঁচি দিয়ে মাজেদার মেক্সি উচু করে তলপেটে পোচ দেয়। তারপর কাঁচি দিয়ে মাজেদার পায়ে পোচ দেয়। এরপর সেলো মেশিনের গর্তের মধ্যে ফেলে দেয়। আলেক মারা গেলে মোস্তফা আলেকের শরীরের উপর গামছা দিয়ে ঢেকে দেয়। এর পর কাঁচি ঘেরের পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলে মোস্তফা ও জেসমিন যে যার মত বাড়িতে চলে যায়।

Comments (0)

Your email address will not be published. Required fields are marked *