তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর প্রতিবেদক: এক দফার আগেই ৭দফা মেনে নেন- না হলে উঠতে পারবেন না। ৭দফার থেকে এক দফার ওজন অনেক বেশি। এর তলায় পড়ে গেলে আর উঠতে পারবেন না।
তাই দ্রুত এক দফা দেওয়ার আগেই ৭ দফা মেনে নিন। এক দফা দিলে কেউ আর উঠে দাঁড়াতে পারে না। এক দফার পাথর তাই মাথায় তুলে নেবেন না। ভালই ভালই সাত দফা মেনে নিন। সাত দফা মেনে নিলে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করলে। আমরা কথা দিচ্ছি আমরা আর লংমার্চ করব না। কিন্তু আপনাদের কথা বিশ্বাস করা কঠিন। আপনারা নির্বাচনের আগে বলেছিলেন গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করবেন। কিন্তু নির্বাচনের পর সেটা ভুলে গেলেন। আর যদি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে ফ্যাসিবাদদের রাস্তায় হাঁটেন তাহলে মনে রাখবেন তাদেরকে কলার পাতায় ঘুমাতে হবে। তাদেরকে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে। আমরা চায় না তাদের সেই পরিণতি হোক। আমরা ও তারা উভয় মজলুম ছিলাম। কিন্তু তারা এখন স্বৈরাচারের পথে ধাবমান হচ্ছে। এটা দেশের জন্য ও তাদের জন্য করুণ পরিণতি ডেকে নিয়ে আসবে। ইতিমধ্যে আপনারা যা করেছেন, সেই সব অপরাধের দায় জাতির কাঁধে জুলুম করে চাপিয়ে দিচ্ছেন। আমরা রাস্তায় নেমেছি বাংলাদেশ থেকে চাঁদাবাজ, দখলবাজ, দুর্নীতিবাজ, মুক্ত করার জন্য। রাস্তায় নেমেছি গোটা দেশকে রক্ষা করার জন্য।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় যশোর মুরলী মোড়ে লং মার্চের পথসভায় বিরোধী দলের নেতা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের আমির ও ১১ দলীয় জোটের নেতা ডঃ শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, দেশে কেউ যদি আবার স্বৈরাচার হতে চাই তাহলে তাদের অবস্থান হবে শোচনীয় হবে। আমরা কথা দিচ্ছি জীবন দিব। তবে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না।
জাতীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিএনপি সরকারের কাছ থেকে এদেশের মানুষ বাঁচতে চাই। দেশের মানুষ এখন বিদ্যুৎ চাই গ্যাস চাই, খাবার চাই। তারা এসব নাগরিক সুবিধার না পেলে আবারো রাস্তায় নেমে আসবে। বিএনপি সরকার এখন প্রতিটা ক্ষেত্রে দখল করে নিয়েছে। তারা সরকারি চাকরি-বাকরি সব ক্ষেত্রেই । তারা দেশের সব ব্যাংকগুলোতে নিজেদের লোকজনকে বসিয়ে দিচ্ছে। এসব করে ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাংকগুলোকে পঙ্গু করে ফেলেছে। আর এসব ব্যাংকের ঋণ খেলাবিরা বহাল তবিয়তে রয়েছে। এসব ব্যাংকগুলোকে ঘুরে দাড়ানোর জন্য কোন প্রকল্প বিএনপি সরকারের নেই। তারা শুধু ব্যাংক গুলাকে লুটপাট করে ধ্বংস করে চলেছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও হেফাজত ইসলামী বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেন,গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে লংমার্চ করছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। গত কয়েক দিনে লং মার্চে শত শত মাইল পাড়ি দিয়েছি। পথের দু’ধারে লক্ষ লক্ষ নারী-পুরুষ লং মার্চকে সমর্থন যুগিয়েছেন। গত কয়েক মাসে সরকার তেল গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করে মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ করে তুলেছে। জনগণের এ সরকারের প্রতি বিন্দুমাত্র আস্থা আর নেই। এ সরকার নির্বাচনে ভোট চুরি ও ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় গিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। তারপরেও সরকারের এই মেকানিজম আমরা মেনে নিয়েছিলাম যে, সরকার দেশের মানুষকে আসার আলো দেখাবে। কিন্তু সরকার তার ধারের কাছেও যেতে পারেনি। তারা গণভোটের রায় মেনে না নিয়ে উদ্যতপূর্ণ আচরণ করে যাচ্ছে। এই সরকার সীমালংঘন করলে জনগণ ছক্কা মেরে দেশ থেকে বিতাড়ি করবে। তিনি আরো বলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার বিএনপির দল এমন আচরণ করবে তা ভাবতেও লজ্জা হয়। তিনি আরো বলেন শিলং সালাউদ্দিনকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী করে বিএনপিকে কলঙ্কিত করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জনগণের সাত দফা দাবি আদায় এবং সরকারের ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এ লংমার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগের দু’টি লংমার্চের তুলনায় এবারের কর্মসূচি সবচেয়ে দীর্ঘ। এর মাধ্যমে সাত দফা দাবির পক্ষে দেশব্যাপী জনমত গড়ে তোলা এবং সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার বিষয়গুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। সরকার এরপরেও যদি জেগে জেগে ঘুমায় তাহলে স্বৈরাচার যে পরিস্থিতি হয়েছিল বিএনপিকেও একই পরিস্থিতি ভোগ করতে হবে।
এর আগে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা (ফরিদপুর), গোপালগঞ্জ, বাগেরহাটের ফকিরহাট ও রূপসা ব্রিজ হয়ে খুলনা হয়ে লংমার্চের ছয় শতাধিক গাড়ি বহর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে যশোর এসে পৌছায়। যশোরে সাড়ে সাতটায় পথসভা শেষ করে
যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভায় যোগ দেবে অংশগ্রহণকারীরা। পথে কয়েকটি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে রাত কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভায় যোগ দেবে লংমার্চের বহর।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, যশোর ৫টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সহ সভাপতি আবু সাদেক কায়েম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্রশিবির (ডাকসুর) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদসহ ঐক্য জোটের নেতারা।
পথসভার সভাপতিত্ব করেন যশোর ৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল।