যশোর বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দু’ই কমেছে 

নিউজটি শেয়ার লাইক দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুই কমেছে। বিশেষ করে ইংরেজিতে ফেল করায় এ বিপর্যয় ঘটেছে। গত বছরের তুলনায় কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫ ও। আর ৯টি বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে টানা তিনবারের মতো অষ্টম অবস্থানে রয়েছে

শনিবার সকালে ফল প্রকাশ করেন যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন।

তিনি বলেন, ইংরেজিতে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯৫, আইসিটিতে ৬৭ দশমিক ৮৪ ও উচ্চতর গণিতে ৬৯ দশমিক ৭১। এই তিন বিষয়ে উর্তিন্নোর হার কমে যাওয়ায় বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। তাছাড়া অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্য বিষয়ের শিক্ষক ইংরেজির ক্লাস নেন, আবার আইসিটির বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংকট, নকলমুক্ত পরিবেশ থাকায় শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। এছাড়া নকলমুক্ত, সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে।

এ বছর (২০২৬) যশোর বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ ভাগ; জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী। গত বছর (২০২৫) যশোর বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ ভাগ; জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৯৯৫ জন শিক্ষার্থী। পাসের হারের দিক থেকে এ বছরের ফলাফল সাধারণ ৯টি শিক্ষাবোর্ডের মধ্যে অষ্টম। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ নিয়ে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে বরিশাল। গত তিনবছর ধরেই যশোর বোর্ড এই অবস্থানে রয়েছে। অথচ এই যশোর বোর্ড ২০২১ সালে বোর্ডসেরা অবস্থানে ছিল।শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত ফলাফলে যশোর বোর্ডের এই চিত্র উঠে এসেছে। বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, ইংরেজি, আইসিটি ও উচ্চতর গণিতে অনুত্তীর্ণের হার বেড়ে যাওয়ায় বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন এসব তথ্য জানিয়েছেন।যশোর বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফল থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে এক লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ২১ হাজার ৫০২ জন এবং ছাত্রী ২৯ হাজার ১৬৬ জন। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ২২৮ জন। বহিষ্কৃত হয়েছে ৪৩ জন।এর আগে ২০২৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে এক লাখ ১২ হাজার ৫৭৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৫৬ হাজার ৫০৯ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ২৪ হাজার ৯০১ জন এবং ছাত্রী ৩১ হাজার ৬০৮ জন। পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৯৯৫ জন। বহিষ্কৃত হয় ২৬ জন।২০২৪ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে এক লাখ ২২ হাজার ৫১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ৭৮ হাজার ৭৬৪ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ৩৬ হাজার ২৪৭ জন এবং ছাত্রী ৪২ হাজার ৫১৭ জন। পাসের হার ছিল ৬৪ দশমিক ২৯। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৯ হাজার ৭৪৯ জন। বহিষ্কৃত হয় ১৩ জন।২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে এক লাখ ৯ হাজার ৬৩৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছিল ৭৬ হাজার ৬১৬ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ৩৫ হাজার ৮৮৫ জন এবং ছাত্রী ৪০ হাজার ৭৩১ জন। পাসের হার ছিল ৬৯ দশমিক ৮৮। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৮ হাজার ১২২ জন। বহিষ্কৃত হয় ২৭ জন।২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে ৯৮ হাজার ২৬৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ৮২ হাজার ৫০১ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ৪০ হাজার ৮২১ জন এবং ছাত্রী ৪১ হাজার ৬৮০ জন। পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৯৫। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১৮ হাজার ৭০৩ জন। বহিষ্কৃত হয়েছিল ৯ জন।২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ১৬৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয় ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৪১ জন। উত্তীর্ণদের মধ্যে ছাত্র ৬৪ হাজার ১০৬ জন এবং ছাত্রী ৬১ হাজার ৬৩৫ জন। পাসের হার ছিল ৯৮ দশমিক ১১। জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২০ হাজার ৮৭৮ জন। এই ফলাফলে ২০২১ সালে যশোর বোর্ড দেশসেরা অবস্থান অর্জন করেছিল।যশোর শিক্ষাবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর যশোর বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২১ হাজার ৬৫৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫ হাজার ১৬৭ জন। পাসের হার ৭০ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮৫৮ জন। মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৭৯ হাজার ১৮ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৩০ হাজার ১৯১ জন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ২১ ভাগ। এই বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৬৫ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ১২ হাজার ১১৫ জন ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ৫ হাজার ৩১০ জন। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৮৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৫ জন ছাত্র ছাত্রী।এবারের ফলাফলের চিত্র তুলে ধরে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন জানান, ইংরেজিতে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯৫, আইসিটিতে ৬৭ দশমিক ৮৪ ও উচ্চতর গণিতে ৬৯ দশমিক ৭১। এই তিন বিষয়ে অনুত্তীর্ণের হার বেড়ে যাওয়ায় বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে। সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন আরও বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্য বিষয়ের শিক্ষক ইংরেজির ক্লাস নেন, আবার আইসিটির বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংকট রয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। এছাড়া নকলমুক্ত, সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা কোনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারেনি। এইসব কারণে সার্বিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।

Comments (0)

Your email address will not be published. Required fields are marked *