নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত পাঁচজন। নিহতদের মধ্যে একজন বাসের যাত্রী হাশেম আলী (৪০)।
সে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার নীলকণ্ঠপুর গ্রামের আছান আলীর ছেলে। অন্যজন বাসটির সুপারভাইজার। তার পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে যশোর-নড়াইল রোডের সদর উপজেলার তারাগঞ্জে সেন্টমার্টিন পরিবহনের একটি বাস উল্টে দু’জন নিহত হয়। ওই দুর্ঘটনায় আরো অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে জেলা সদর উপজেলার হামিদপুর এলাকায় ট্রাক চাপায় অজ্ঞাত পরিচয়ে এক পথচারীর মৃত্যু হয়েছে।
বাসযাত্রী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমাদের বাড়ি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলায়। আমরা ৪০ জন চট্টগ্রামের রাউজান থেকে রোববার সন্ধ্যায় সেন্টমার্টিন পরিবহনের একটি রিজার্ভ বাসে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে যাচ্ছিলাম। গোপালগঞ্জ আসার পর বাসচালক ঘুমাতে যান। এসময় তিনি বাসের হেলপারের কাছে গাড়ি চালাতে দেন। বৃষ্টির মধ্যে বাসের হেলপার বেপরোয়া গতিতে চালাচ্ছিল। তারাগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে যায় বাসটি।’
নড়াইলের তুলারামপুর হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক মনির আহমদ বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। দু’জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৫ জন।
নিহত হাশেম আলীর খালাত ভাই মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ৪০ জন ইটভাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করতাম। ৮ মাস পর বাস রিজার্ভ করে বাড়ি ফিরছিলাম। পথিমধ্যে দুর্ঘটনায় খালাতো ভাই হাশেম আলী ও বাসের সুপারভাইজার নিহত হয়েছেন। আমরা বাড়ি ফিরলেও ভাই ফিরবে লাশ হয়ে।’
যশোর কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন। তাদের সবাইকে যশোর ২৫০ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।