নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের বেনাপোলে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ক্লুলেস ইজিবাইক চালক সজীব হত্যার হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা।
হত্যাকাণ্ডের সাথে সাথে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ব্যাপক তৎপরতা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অবশেষে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে চারজনকে গ্রেফতার করেছে তারা।
গতকাল সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বেনাপোলে বল ফিল্ডে এলাকায় অভিযান চালিয়ে শামীম ও রাব্বি নামে দু’জনকে আটক করেন। শামীম হোসেন বেনাপোল গয়ড়া লিটন আলীর ছেলে। সে বেনাপোল বড়আঁচড়া ইদু’র বাড়ির পাশে ভাড়া থাকতো)। আশরাফুল আলম রাব্বি বেনাপোল বড়আচড়া ভরতের বাড়ির পাশে সওদাগর আলীর ছেলে। পরে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর উপর ভিত্তি করে বেনাপোলের বড়আচড়ার মাঠপাড়া থেকে আজম হোসেন (২০) নামে আরো একজনকে আটক করেন। সে ওই এলাকার ইসমাইল হোসেন ওরফে বারমার ছেলে। পরে তাদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর উপর ভিত্তি করে রাতে শার্শা বাগআঁচড় সিনেমা হলের সামনে থেকে ছিনতাই করা ইজিবাইকসহ জাহাঙ্গীর কবির (৩০) নামে আরো একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। সে শার্শার রাড়িপুকুর এলাকার রবিউল ইসলাম ছেলে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে মাদক ব্যবসার টাকা দেনা পাওনা নিয়ে তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন যাবত মনোমালিন্য চলছিলো । এক পর্যায়ে মঙ্গলবার রাতে তারা সজীব গাজির ইজিবাইক ভাড়া নিয়ে পুটখালী যাওয়ার কথা বলে তাকে ইজিবাইকের মধ্যেই হত্যা করে খড়িডাঙ্গার একটি ধান ক্ষেতে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। পরে ইজি বাইকটি নিয়ে বাগআচড়ার সিনেমা হলের সামনে এক গ্যারেজে রাখে।
যশোর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) বেলাল হোসাইন বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল সকালে পুলিশ বেনাপোলের একটি ধান ক্ষেতে ইজি বাইক চালক সজীবের গলা কাটা মৃত দেহ উদ্ধার করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিলো হয়তো বা শুধুমাত্র ইজিবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে মামলাটি ক্লুলেস হওয়ায় যশোর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা অতিরিক্ত তদন্ত করে জানতে পারে মাদক বেচাক কেনার টাকা দেনা পাওনা নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। সাথে সাথে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের অবস্থান শনাক্ত করার পর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে বেনাপোল ও বাগআচড়া এলাকা থেকে আটক করা হয়। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা ইজিবাইক, হত্যা কাজে ব্যবহৃত চাকু, রক্তমাখা গেঞ্জি ও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। দুপুরে তাদের আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে।