তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর: বন্ধুরা মিলে ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প, পাইপ ও চাকু দিয়ে অপার বন্ধু হাবিবুর রহমান (২৪) (মাদক ব্যবসায়ী) কে হত্যা করে মৃত দেহ থেকে নাড়ি ভুঁড়ি বের করে হাতে পায়ে বালির বস্তা ঝুলিয়ে নদীতে ফেলে দেয়।
এরপর নিহতের স্ত্রী কে সঙ্গে নিয়ে অভয়নগর থানায় গিয়ে বন্ধু নিখোঁজের জিডি করেন ইয়াসিন(মাদক ব্যবসায়ী)।
নিহত হাবিবুর রহমান জেলার অভয়নগর উপজেলার তালতলা মধ্যপুর গ্রামের রেজাউলের ছেলে
নিখোঁজের দুদিন পর গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হাবিবুরের মৃত দেহ জেলার অভয়নগর উপজেলার জয়েন্ট ট্রেডিং বালুর মাঠের নীচে ভৈরব নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করে অভয়নগর থানা পুলিশ। পরে পুলিশ প্রযুক্তির মাধ্যমে মৃত্যু দেহের পরিচয় সনাক্তকরেণ। এ ঘটনায় সাথে জড়িত থাকার দায়ে পুলিশ চারজনকে আটক করেছে।
আটককৃতরা হলেন, অভয়নগর উপজেলার তালতলা মধ্যপুর গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে মেহেদী হাসান (২২), একই উপজেলার বিভাগদী গ্রামের মোশারফ শেখের ছেলে হুমায়ূন শেখ(২১), একই গ্রামের মৃত আজাহার শেখ ওরফে আজা শেখের ছেলে ফয়সাল শেখ(২১), একই গ্রামের খন্দকার আনিসুর রহমানের ছেলে খন্দকার আল আমিন(৩০)। তাদের গ্রেপ্তারের পর তাদের হেফাজত থেকে হত্যা কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ক্রিকেট খেলার স্ট্যাম্প একটি পাইপ উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা।
যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রুপণ কুমার সরকার বলেন, খুন হওয়া হাবিবুর একজন মাদক ব্যবসায়ী। হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী তার বন্ধু ইয়াসিনও মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবনকারী। এলাকায় মাদব বেচাকেনা নিয়ে তাদের মধ্যে রেষারেষি চলছিল। গত ৮ জুলাই বিকাল চারটার দিকে বন্ধু ইয়াসিন এর সহিত বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি হাবিবুর। এর পর ইয়াসিন হাবিবুরের স্ত্রীকে থানায় নিয়ে নিখোঁজের জিডি করে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন। একপর্যায়ে নিখোঁজের দুই দিন পর হাতে পায়ে বালুর বস্তা বাধা অবস্থায় হাবিবুরের মৃতদেহটি ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় ও পেটে রয়েছে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিখোঁজ ডায়রী করার সময় বন্ধু ইয়াসিন থানায় গেলেও লাশ পাওয়ার পর লাপাত্তা রয়েছে। এ ঘটনায় চারজন কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ঐদিন সন্ধ্যায় তারা হাবিবুরকে মাদক নেয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসে। এরপর নদীর ধারে নিয়ে তার মাথায় ও বুকে ছুরিকাঘাত করে ও পিটিয়ে হত্যা করে। পরে মৃত্যু দেহের পেট থেকে নাড়ি ভুঁড়ি বের করে হাতে পায়ে বালির বস্তা ঝুলিয়ে নদীতে ডুবিয়ে দেয়। গ্রেফতারকৃতদের আদালতে হস্তান্তর করা হয়েছে।