নিজস্ব প্রতিবেদক: স্কুল শিক্ষকের প্রেমে প্রতারিত হয়ে দুই সন্তানের মা চম্পা বেগম (২৮) নামে এক নারী লাইভে এসে আত্মহত্যা করেছে।
এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে (১৭ অক্টোবর) দুপুরে যশোর শার্শা উপজেলার কাইবা ইউনিয়নের ধান্যতাড়া গ্রামে। ওই নারীর ১৩ বছরের একটা মেয়ে ও সাত বছরের একটা ছেলে রয়েছে।
ওই নারী লাইভে এসে গ্যাস ট্যাবলেট ও বিষের বোতল হাতে নিয়ে বলেন, এটা খেয়েই আমি মরছি। আর এর জন্য দায়ী কবির। কবির আমার সঙ্গে চারটে বছর সম্পর্ক রেখেছে। সে আমার আশা ভরসা দিয়েছে বলে এই পর্যন্ত এসেছি। এর আগে আমি কখনো তার ভিটেই পা দেইনি। সে আমার এর আগেও জীবন নষ্ট করেছে। তাই আমার মৃত্যুর জন্য কবিরই দায়ী। গ্যাস ট্যাবলেট খাওয়ার আগে ৩১ সেকেন্ডের একটা ভিডিওতে এসব কথা বলেন চম্পা বেগম নামে ওই নারী।
চম্পা বেগম কায়বা ইউনিয়নের ধন্যতাড়া গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মিন্টু রহমানের স্ত্রী। গতকাল দুপুরে সে গ্যাসের ট্যাবলেট খেলে পরিবারের লোকজন তাকে প্রথমে বাগআচড়া ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে নাভারণ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানেও তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল নিয়ে যান স্বজনরা। সেখানে দুপুর আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।ময়নাতদন্তের জন্য চম্পা বেগমের মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
প্রবাসী মিন্টু চাচা সারাফত আলী জানান, শার্শার ভবানীপুর গ্রামের সালেহ উদ্দিন’র পুত্র স্কুল শিক্ষক কবিরুল ইসলাম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে চম্পা বেগমের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং তাঁর কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে বিয়ে না করায় চম্পা বেগম অভিমানে আত্মহত্যা করেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক কবিরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার বাড়িতে গেলে তাকে বাড়িতে না পাওয়ায় তার বক্তব্য গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ শামিনুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চম্পা বেগমের আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারী তার পরকীয়া প্রেমিক কবিরুলের বিরুদ্ধে নিহতের ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। অধিকতার তদন্তের জন্য একজন তদন্ত কর্মকর্তাকে মামলাটি দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বের হয়ে আসবে বলে তিনি জানান।