যশোরে বরো চাল সংগ্রহ করা গেলেও ধান সংগ্রহ অনিশ্চিত

নিউজটি শেয়ার লাইক দিন

তরিকুল ইসলাম মিঠু: যশোরে বোরো চাল সংগ্রহে করা গেলেও ধান সংগ্রহ অনিশ্চিতা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছে মিলারদের সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকার কারণে মিলাররা লাইসেন্স রক্ষায় লোকসান হলেও সরকারি গুদামে চাল দিতে বাধ্য কিন্তু অসময়ে বৃষ্টি কারণে বোরো ধান নষ্ট হওয়ার কারণে এবার ধানের দাম অনেক অংশই বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে কৃষক সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহী নয়।

২০২২ সালে যশোরের আটটি উপজেলায় বোরো ধান চাল  সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ৭৫৪ মেট্রিক টন।

এ মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বোরো চাল সংগ্রহে ৮টি উপজেলায় ৬ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি কেজি সিদ্ধ চাল ৪০ টাকা দরে এবং বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ৭২৮ মেট্রিক টন। ধান প্রতি কেজি ২৭ টাকা দরে সরকার ক্রয় করবে।

ধান সংগ্রহের সময় সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ এপ্রিল ২০২২ থেকে ৩১ শে আগস্ট ২০২২ পর্যন্ত। অন্যদিকে চাল সংগ্রহের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ই মে ২০২২ থেকে ৩১ শে আগস্ট ২০২২ পর্যন্ত।

আরো পড়ুন>> অভয়নগরে ১০ কোটি টাকার সরকারি সম্পদ ১০ লাখ টাকা নিয়ে দলিল করলো সাব রেজিস্ট্রার-দলিল লেখক

যশোর জেলার ৮টি উপজেলায় ৬ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন চালের মধ্যে  যশোর সদর উপজেলায় ৬ হাজার ২৬৫ মেট্রিক টন, মণিরামপুর উপজেলায় ২ হাজার ৫২৫ মেট্রিক টন, কেশবপুর উপজেলায় ১ হাজার ১৬ মেট্রিক টন , অভয়নগর উপজেলায় ৭ হাজার হাজার ২১২ মেট্রিক টন
ঝিকরগাছা উপজেলায় ১ হাজার ৬০৮ মেট্রিক টন , শার্শা উপজেলায় ৬ হাজার ১৭১ মেট্রিক টন, বাঘারপাড়া উপজেলায় ৩২৬ মেট্রিক টন, চৌগাছা উপজেলায় ১ হাজার ৬৩১ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছ।

তাছাড়া যশোর জেলার ৮টি উপজেলায় মোট ২০ হাজার ৭২৮ মেট্রিক টন ধানের মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ৩ হাজার ১৩৮ মেট্রিক টন, মণিরামপুর উপজেলায় ৩ হাজার ৮৯২ মেট্রিক টন, কেশবপুর উপজেলায় ১ হাজার ৩৬০ মেট্রিক টন, অভয়নগর উপজেলায় ১ হাজার ৮৫২ মেট্রিক টন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ২ হাজার ৭১৫ মেট্রিক টন, শার্শা উপজেলায় ৩ হাজার ৩২৫ মেট্রিক টন, বাঘারপাড়া উপজেলায় ১ হাজার ৯৭৫ মেট্রিক টন, চৌগাছা উপজেলায় ২ হাজার ৪৭১ মেট্রিক টন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু সংগ্রহের প্রায় এক মাস হতে চললেও চাল সংগ্রহে সাড়া মিললেও ধান সংগ্রহে সাড়া মিলছে না কৃষকদের কাছ থেকে।সংগ্রহের শুরু থেকে গতকাল রোববার পর্যন্ত জেলার আটটি উপজেলার সংগ্রহের পরিমাণ হয়েছে চাউল ৪ হাজার ৮৪০.২৩০ মেট্রিক টন, এরমধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ১ হাজার ১০৭.৬০০ মেট্রিক টন, মণিরামপুর উপজেলায় ৫৮৯.৭২০ মেট্রিক টন, কেশবপুর উপজেলার ৬০.৬০৬০ মেট্রিক টন, অভয়নগর উপজেলায় ১ হাজার ৫১৪.৪৫০ মেট্রিক টন, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৩৯০.৬৯০ মেট্রিক টন, শার্শা উপজেলায় ৬৬২.৭৩০ মেট্রিক টন, বাঘারপাড়ায় সংগ্রহ শুরু হয়েছে কিন্তু মিলাররা এখনো কোন ধরনে চাল সরবরাহ করেনি। চৌগাছা উপজেলায় এখনো পর্যন্ত সংগ্রহ হয়েছে ৫১৪.৩৮০ মেট্রিক টন, এসময়ের মধ্যে ধান সংগ্রহের মাত্রা দাঁড়িয়েছে সদর উপজেলায় শূন্য অর্থাৎ এ উপজেলায় এখনো পর্যন্ত ধান সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। মনিরামপুর উপজেলায় শূন্য। সেখানে ও এখনো পর্যন্ত সংগ্রহ হয়নি। কেশবপুর উপজেলায় সংগ্রহে হয়েছে ২৪১.১২০ মেট্রিক টন, অভয়নগর উপজেলা ১৬০.৭৬০ মেট্রিক টন, ঝিকরগাছা উপজেলায় সংগ্রহ হয়েছে ২৬২.৭৬০ মেট্রিক টন, শার্শা উপজেলায় ১২০ মেট্রিক টন, বাঘারপাড়া উপজেলা ৩০.০৪০ মেট্রিক টন , চৌগাছা উপজেলায় ১৪৭ মেট্রিক টন সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।

যশোরের একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ বছরে অসময়ে বৃষ্টির কারণে বোরো ধনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় ধান পানির তলায় ডুবে পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। ধান রোপণ থেকে শুরু করে ধান উৎপাদন করতে অন্য বারের থেকে এবার দ্বিগুণ খরচ হয়েছে। তাছাড়া কৃষকের ধানের কিছু অংশ ক্ষেতেই নষ্ট হয়ে গেছে যে কারণে কৃষক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি বাজারে যোগানের থেকে চাহিদা বেশি থাকায় ধানের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত দামের থেকে বাজারে মন প্রতি ১০০ থেকে দেড়শ টাকা বেশি পাওয়া যাচ্ছে। যার ফলে কৃষক সরকারি গুদামে ধান না দিয়ে স্থানীয় বাজারগুলোতে ধান বিক্রি করছে। ফলে সরকারি গুদামে ধান সংগ্রহে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে কঠিন হবে বলে জানান তারা।

 

যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা নিত্যানন্দ কুন্ডু বলেন, ধান ক্রয়ের ক্ষেত্রে কৃষকদেরকে উৎসাহিত করার জন্য ব্যাপক প্রচার প্রচারণার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রান্তিক চাষীরা যাতে সরকারি গুদামে ধান দেওয়ার সুযোগ পান সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে প্রান্তিক চাষীদের দিকে নজর রেখে সরকার যশোর জেলার সদর উপজেলা, ঝিকরগাছা উপজেলা, শার্শা উপজেলা, কেশবপুর উপজেলা ও চৌগাছা উপজেলায় অ্যাপসের মধ্যমে  সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে অসময়ে বৃষ্টির কারণে ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। যে কারণে কৃষক কাঙ্খিত উৎপাদন করতে ব্যর্থ হয়েছে। যার ফলে বাজার ব্যবস্থাপনায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। সরকারের বেঁধে দেওয়া ধানের দামের থেকে বাইরের ব্যাপারীরা বেশি দামে ধান ক্রয় করায় কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান দিতে আগ্রহী নয়। তার পরেও আমি ও আমার স্টাফ দের নিয়ে জেলার ৩ উপজেলায় তিন ধান মজুদদারদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে প্রায় এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছি। সরকারী নীতিমালা মোতাবেক লাইসেন্সধারী মিল হতে সিদ্ধ চাউল সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হলেও ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কঠিন হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।

Comments (0)

Your email address will not be published. Required fields are marked *