নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরের পেঁয়াজের বাজারে আবারও আগুন লেগেছে। বাজারের পেঁয়াজের দোকানগুলোতে একদিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি ২৫ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি পাওয়াতে দোকানদার ও ক্রেতাদের মাঝে প্রতিনিয়ত হচ্ছে বাকবিতণ্ডা।
বছরজুড়ে পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীলতা থাকলেও বছরের প্রথমে নতুন পেঁয়াজের ওঠা তে অনেকটাই পেঁয়াজের বাজার স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। ফলে দেশের নিম্নআয়ের লোক গুলো নাভিশ্বাস ছেড়ে বাঁচে। কিন্তু একমাস কাটতে না কাটতেই যশোরের সেই পেঁয়াজের বাজারে আবারো অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গত একদিনের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজে ২৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে যশোরের বাজারগুলোতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার সেই একই ধরনের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা। বিষয়টি নিয়ে নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে আবার ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা দুষছে পাইকারি ব্যবসায়ীদের ও আড়তদারদের। সাধারণ ক্রেতারা অভিযোগ করেছে বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
যশোরে রেল বাজার ও বড়বাজারে বৃহস্পতিবার সকালে গিয়ে দেখা যায়, পেঁয়াজ ক্রেতা ও খুচরা দোকানদার দের মাঝে কেনাকাটা নিয়ে একাধিক ব্যক্তির সাথে বাকবিতণ্ডায় হচ্ছে।
যশোর বড় বাজারে বাজার করতে যাওয়া মহিদুল, বাবু, রিনা বেগম, শান্ত, সুশান্ত সহ একাধিক ব্যক্তি জানান, গত দুদিন আগেও প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৫ টাকা দরে কিনেছি। সেই পেঁয়াজ আজকে বাজারে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এটা সত্যিই অমানবিক। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বসে বসে মোটা অংকের টাকা নিচ্ছে প্রতি মাসে। তাদের পক্ষে ৫০ টাকা কেজি দরে কিনে খাওয়া সম্ভব। কিন্তু আমাদের মত মানুষের এত টাকা দামে পেঁয়াজ কেনা সম্ভব না। সরকারের বাজার কর্মকর্তারা যদি বাজার মনিটরিং করতেন তাহলে পেঁয়াজের দাম একদিনের ব্যবধানে ২৫ টাকা বৃদ্ধি হতো না বলেও তারা জানান।
বিষয়টি নিয়ে যশোরের বাজার কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন আমাদের জনবল সংকট রয়েছে। বাজার মনিটরিং ছাড়াও আমাদের নানাবিধ কাজ থাকে। যে কারণে আমাদের পক্ষে বাজার মনিটরিং সবসময় করা সম্ভব হয় না। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বিষয়টি নিয়ে যশোর ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ওয়ালিদ বিন হাবিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাজারের অনিয়ম নিয়ে যদি কেউ আমাদের কাছে অভিযোগ করেন তাহলে সেই সমস্ত অভিযোগের বিষয়গুলো আমরা গ্রহণ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। তবে এ ছাড়া আমাদের আর কোন কিছু করার নেই বলে তিনি জানান।