স্টাফ রিপোর্টার: গতকাল দুপুরে বেনাপোলের একাধিক মামলার আসামি চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও পুলিশের কালো তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও ক্রসফায়ারের তালিকাভুক্ত আসামি রবিউল ইসলাম কালু প্রেসক্লাব যশোরের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছিলেন তার মেয়ের জামাই ৭১ টেলিভিশনেরও গ্রামের কাগজের বেনাপোল প্রতিনিধি মুসলিম উদ্দিন পাপ্পু’ জাল-জালিয়াতের মাধ্যমে জমি আত্মসাৎ করেছে।
তার একদিন পরে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুসলিম উদ্দিন পাপ্পুও তার স্ত্রী লাভলি আক্তার প্রেসক্লাব যশোরের কনফারেন্স রুমে শশুরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রবিউল ইসলাম কালুর মেয়ে লাভলী আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, গতকাল তার স্বামী মুসলিম উদ্দিন পাপ্পুর বিরুদ্ধে তাঁর পিতা রবিউল ইসলাম কালু যে সংবাদ সম্মেলন করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বরং তার পিতা রবিউল ইসলাম কালু নিজেই একাধিক মামলার আসামিও বেনাপোলের একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও পুলিশের তালিকাভুক্ত কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। সে কৌশলে আমার নামীয় ক্রয় করা জমি দখল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
আমার জমির মৌজাঃ ৪৮নং বেনাপোল, এস এ খতিয়ান নং-২৭৩, আর এস নং-৭২৮, নামপত্তন নং-১৩৫৯, এস এ দাগ নং- ৬০১, আর এস দাগ নং-৮৮৪, জমির পরিমাণ ২.৫০ শতক। যাহা আমি নিজ নামে নামপত্তন করেছি, যাহার নামপত্তন খতিয়ান ১৯৯০নং দলিল নং-৪১৭৯ তারিখঃ ১২/০৬/২০১৬ ইং। এবং ৪১নং ডুবপাড়া মৌজার খতিয়ান নং-১৫ ও ১৬ নং। হাল জরিপ খতিয়ান নং-১৪১৯, ডিপি চুড়ান্ত ৭২৫ নং। এস,এ দাগ ১৫৪৯ নং, আর এস দাগ ৩৩২১ ও ৩৩২২ নং ৭১২.৫০ শতক জমি। যার দলিল নং- ৩১৪৪ নং তারিখ- ০৯/০৫/১৭, যাহা আমার স্বামী ক্রয় করে আমার নামে রেজিষ্ট্রি করে দেন। বর্তমানে এ সংক্রান্ত মামলা আদালতে বিচারাধীন। আমার পিতা একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী। তিনি আমার স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ সম্মেলন করে তার সম্মানহানী করেছেন।
তিনি আরো জানান, তার পিতা রবিউল ইসলাম কালু বর্তমানে দ্বিতীয় বিয়ে করে শার্শার শিকারপুর গ্রামে বসবাস করছেন। তার পিতা পুলিশের একজন তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী। বর্তমানে তার নামে বিভিন্ন
থানায় ১০/১২ টি মাদক ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। বাবা দ্বিতীয় বিবাহ করে আমার গর্ভধারণী মাকে প্রতিনিয়ত অত্যাচার নিপীড়ন করছেন। আমরা এর প্রতিবাদ করলে তিনি, আমি এবং আমার স্বামীকে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি প্রদান করছেন। প্রাননাশের হুমকির কারণে আমি আমার স্বামীকে নিয়ে বর্তমানে বেনাপোল থেকে যশোরে এসে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছি। তাদের বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতের মাধ্যমে দলিলের বিষয়টি সত্য নয়। আমার মাদক ব্যবসায়ী পিতা আমার স্বামীর কাছে থেকে জোর করে জমি দখলে নেওয়ার জন্য একাধিক বার সন্ত্রাসী দ্বারা প্রাননাশের হুমকি দিয়েছেন। আমার স্বামী পাপ্পু একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি আমদনি-রপ্তানী সি এন্ড এফ ব্যবসা, ট্রান্সপোর্ট ব্যবসা এবং মিনিবাসের ব্যবসা করছেন। পাশাপাশি তিনি বর্তমানে ৭১টিভি, দৈনিক গ্রামের কাগজ এবং দৈনিক মানব জমিন পত্রিকার বেনাপোল প্রতিনিধি। তিনি সুনামের সাথে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা ও সাংবাদিকতা করে আসছেন। তিনি কখনও কোন দিন মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন না। স্বামীকে সামাজিক ভাবে সম্মানহানি করায় পিতা রবিউল ইসলাম কালু
বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে গতকাল বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের কনফারেন্স রুমে এক সম্মেলনে রবিউল ইসলাম কালু জানান,জাল-জালিয়াতের মাধ্যমে তার জামাই সাংবাদিক মুসলিম উদ্দিন পাপ্পু বেনাপোল মৌজার এস এ খতিয়ান ন্ং-২৭৩,আর এস খং নং-৭২৮,নামপত্তন খং নং-১৩৫৯,এস এ দাগ নং-৬০১,আর এস দাগ নং-৮৮৪ জমির পরিমান-০৫ শতক ও বোয়ালিয়া মৌজার খতিয়ান নং ১৫ ও ১৬, এস এ নং ১৪৪৯, আর এস ৩৩২১ ও ৩৩২২ বিল জমি দাগের ১৪২৫ শতক আমি আমার পুত্র ইকবাল হোসেনের নামে রেজিস্ট্রী করে দেয়। আমার কণ্যা সন্তান লাভলী আক্তারের নাম উল্লিখিত জমিতে অন্তর্ভূক্ত করিনি বা রেজিস্ট্রি করে দেয়নি। শার্শা সাব রেজিস্টার কর্তৃক যে অবিকল নকল দলিল সরবরাহ করা হয়(যা আমার হস্তগত হয়েছে), সেই দলিলের গ্রহিতা শুধুমাত্র আমার ছেলে ইকবাল হোসেনের নাম ছাড়া আমার কণ্যা সন্তানের নাম কিংবা কোন ছবি ছিল না। যার দলিল নং-৪১৭৯ তারিখ-১২/৬/২০১৬ ইং।
চাঞ্চল্যকর বিষয় হচ্ছে,” আমার জালিয়াত জামাই মুসলিম উদ্দিন পাপ্পু উল্লিখিত তফসিলি জমির দলিলে তার স্ত্রী ও আমার কন্যা লাভলী আক্তারের নাম এবং ছবি সংযুক্ত করা একটি জাল দলিল আমাকে দেখিয়ে বলে এই জমির গ্রহিতা এখন ইকবাল হোসেন এবং মোছাঃ লাভলী আক্তার। আমি জামায়ের দেখানো দলিলটি যাচাই-বাছাই করে দেখি আমার প্রাপ্ত দলিলের সাথে এর কোন মিল নেই। অর্থাৎ দলিলটি সম্পূর্ণ জাল করা হয়েছে। দেখানো দলিলটিতে দেখা যায় রেজিস্ট্রী’র তারিখের স্থানে কাটাকাটি, নামের স্থানে কাটাকাটি, স্ট্যাম্প ভেন্ডারের নাম নাসির লেখা হয়েছে যা সঠিক নয়, লাইসেন্স নম্বরও ভিন্ন, জাল নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প নম্বর-ঢ১৫৮২২৮২ যা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এই জাল দলিলের বিরুদ্ধে আমি বিজ্ঞ সিনিঃ জুডিঃ ম্যাজিস্ট্রেট বেনাপোল পোর্ট আমলী আদালত,যশোর বরাবর মামলা করি। মামলা নং-সিআর ৪৬/২১।
প্রতারক এবং জাল দলিল সৃষ্টিকারী মুসলিম উদ্দিন পাপ্পু’র বিরুদ্ধে মামলা করায় সে ক্ষীপ্ত হয়ে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমার বসবাস ভিটার ভাড়াটিয়াদের বিভিন্ন মাস্তান দিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। প্রশাসন দিয়ে হয়রানির হুমকি দিচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে মিডিয়ায় বিভিন্ন ভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করছে। মিথ্যা মামলার হুমকি দিচ্ছে।
পক্ষান্তরে মাদক সম্রাট মৃত সেলিমের বউকে ভাগিয়ে নিয়ে বিয়ে করে আমার মেয়ের উপর বিভিন্ন ভাবে অত্যাচার শুরু করেছে। আমার মেয়েকে যশোরের একটি বদ্ধ বাসায় রেখে জিম্মি করে ফেলেছে। সে মিডিয়ার ছত্রছায়ায় থেকে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে রমরমা মাদক পাচার করে চলেছে।
তিনি এ সকল বিষয়ের প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সন্মেলন করতে বাধ্য হয়েছি। তিনি প্রতারক জামাইকে আইনের আওতায় এনে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছিলেন।