নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে মসজিদের জানালার গ্রিল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মাসুদ রানা (৩২) নামে এক যুবককে পিছিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা।
এই ঘটনায় আরো অন্তত পাঁচ জন গুরুতর আহত হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিমুল নামে এক জনকে আটক করেছে। সে অভয়নগর উপজেলার প্রেমবাদ গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে।
নিহত যুবক যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া মোড় কেফায়েতনগর এলাকার মৃত সোহরাব হোসেনের ছেলে
বুধবার (২৩শে আগস্ট) দিনগত রাত ২টার দিকে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের গাইদগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, অভয়নগরের চেঙ্গুটিয়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে জুলফিক্কার, মণিরামপুর উপজেলার করেরআইল গ্রামের শামীম মোল্লার ছেলে সজিব মোল্লা ও আলমগীর হোসেনের ছেলে সুমন হোসেন, সুবলকাঠি গ্রামের মনসুর আলী বিশ্বাসের ছেলে ইস্রাফিল ও বারপাড়া গ্রামের বাবলু গাজীর ছেলে মঈনুদ্দিন।
স্থানীয়রা জানান, নিহত মাসুদ রানা জেলার অভয়নগর উপজেলার বন গ্রামের বাসিন্দা। ওই এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মুরাদ, শিমুলসহ একটি চক্রের সাথে মাসুদের বিরোধ ছিল। সম্প্রতি সময়ে বনগ্রাম কাটাখাল এলাকার মসজিদের গ্রিল চুরি হয়। মুরাদ, শিমুলসহ ওই চক্রটি এই গ্রিল চুরির জন্য জুলফিক্কার নামে এক যুবককে অভিযুক্ত করে। জুলফিক্কারের বাড়ি চেঙ্গুটিয়ায় হলেও বনগ্রামের পার্শ্ববর্তী গাইদগাছি গ্রামে শ্বশুর আকবর গাজীর বাড়িতে তিনি বসবাস করেন। ওই চুরির সূত্র ধরে জুলফিক্কারের শ্বশুর বাড়ি যাওয়া বন্ধ করে দেয় মুরাদ-শিমুল চক্র।
বুধবার মধ্যরাত ১২টার দিকে মাসুদ চার সহযোগী ইস্রাফিল, সজিব, সুমন ও মইনুদ্দিনকে সাথে নিয়ে জুলফিক্কারকে তার শ্বশুর বাড়িতে তুলে দিতে যায়। এ খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে মুরাদ, শিমুল, বাবু, পিন্টু, হাকিম, আল আমিনসহ ১২ থেকে ১৫ জন রামদা, লাঠি সোটা, কোদালের আচাড়িসহ দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মাসুদ ও তার সহযোগীরে উপর হামলা চালায়। এ সময় তারা মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত পড়েছে’ বলেও প্রচার করে। বেধড়ক মারপিটের এক পর্যায়ে তাদের ভ্যানে তুলে বনগ্রাম কাটাখাল মোড়ে নিয়ে যায়। সেখানে মাসুদকে শ্বাসরোধে হত্যার পর সবাইকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে অভয়নগর থানা ও বসুন্দিয়া ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাসুদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা প্রদান করছেন।
নিহতর কারণ জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, নিহত মাসুদ রানা একাধিক মামলার আসামি। আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনার গিয়ে নিহত ও আহতদের অভয়নগর স্বাস্থ্য কমপ্লিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মাসুদকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত করা হচ্ছে কারা কারা জড়িত। বাকিদেরও ধরতে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।