যশোর জেলা পরিষদের ১৩ বিঘা জমি দখল করে অবৈধ কারখানা

নিউজটি শেয়ার লাইক দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: আছে তিন তলা একাধিক বাড়ি। বিভিন্ন জায়গায় মিল ফ্যাক্টরিও। শ্রমিক সংখ্যা আছে ও দুই শতাধিক।

তারপরও লোলুপ দৃষ্টি সরকারী সম্পদের উপরে। এক যুগ আগে সরকারী ওই সম্পত্তিতে কোনরকম কুঁড়েঘর তুলে বসবাস করতেন রফিক মিয়া নামের এক চা দোকানী। তার সামনে রাস্তার পাশে বসেই বিক্রি করতেন চা। আশপাশের জমিতে লাগাতেন শাকসবজি ও গাছ পালাও। কৌশলে জোর করে তাকে ওই জায়গা থেকে উচ্ছেদ করা হয়।

গত এক যুগ ধরে অবৈধভাবে দখল করে নিয়ে তাতে অবৈধভাবে টুইনিং ও জুট কারখানাও স্থাপন করেছেন। গড়ে তুলেছেন এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীও। স্থানীয়রা কিছু বলতে গেলে সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে করা হয় বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতন। এমনি ঘটনা ঘটেছে ঝিকরগাছা থানার লাউজানী মল্লিকপুর এলাকায়।

https://www.novanews24.com/wp-content/uploads/2023/10/962023183650.jpg

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার লাউজানী বাজার থেকে পশ্চিমে ৫০০ গজ দূরে ৫৮ নাম্বার মল্লিকপুরের মৌজার ৩ নম্বর খতিয়ান ৩৮৯ দাগের জেলা পরিষদের ৪ একর ১৯ শতক জমি বা প্রায় ১৩ বিঘা জমি। এক যুগ আগে এলাকার প্রভাবশালী রুস্তম আলী নামে এক কোটিপতি দখল করে সেখানে প্রথমে রুস্তম ট্রেডার্স নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খাড়া করেন। প্রথম দিকে সেখানে চট ও চটের উৎপাদিত বস্তা ক্রয়-বিক্রয় করা হত। এরপর দফায় দফায় এলাকার পুরো জায়গাটা এখন দখল করে নিয়ে তৈরি করেছেন বস্তা ফ্যাক্টরি ও টুইনিং ফ্যাক্টরী। তার আধা কিলোমিটার দূরে তার তিন তলা বাড়ির নিচতলা সহ আশেপাশের এলাকাগুলোতেও রয়েছে তার কারখানা। জেলা পরিষদের দখল করা জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে কারখান ও আশপাশের কারখানা মিলে তার দুই শতাধিক শ্রমিক ও রয়েছে। এ বিষয়ে অনুসন্ধানে গেলে রুস্তম ও তার ছেলে রাসেল বাহিনী নিয়ে সাংবাদিকের উপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে সংবাদ প্রকাশ করলে সাংবাদিককে নানা ধরনের হুমকিধামকিও দেওয়া হয়।

দখলবাজ ও সন্ত্রাসীদের ভিডিও দেখতে, এখানে ক্লিক করুন

চা দোকানী রফিক মিয়া বলেন, এক যুগ আগে আমি সেখানে বসবাস করতাম। নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে রাতের আধারে সেখান থেকে আমাকে বিতাড়িত করেন। এরপর জায়গা দখল করে নিয়ে সেখানে ছোট পরিসরে ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করলেও পরে পুরো জায়গায় রুস্তম কারখানা ও ডেরা তৈরি করেছে। নেয়া হয়নি কারখানা অধিদপ্তরের লাইসেন্স। এমনকি নেয়া হয়নি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও। হাওয়ার উপর ভেসেই জোর জবরদস্তি করে সরকারী জমি দখল করে তিনি এ অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছেন গত এক যুগ ধরে। তাছাড়া তার ছেলে রাসেল সেখানে বসেই একটি সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত করেন।

বিষয়টি নিয়ে ঝিকরগাছা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামুনুর রশিদের জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা জেলা পরিষদের জমি। দীর্ঘদিন ধরে দখল করে তারা কারখানা স্থাপন করেছে। গত কয়েকদিন ধরে তারা আরো জায়গা দখল করে পাকা স্থাপনা তৈরি করতে চেষ্টা করছিলো আমি সেখানে লোক পাঠিয়ে বন্ধ করে দিয়েছি। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমি তাকে সহযোগিতা করবো বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

যশোর মিল এন্ড ফ্যাক্টরির ইন্সপেক্টর শওকত হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারখানা স্থাপনে লাউজানীতে কারখানা অধিদপ্তর থেকে কোন লাইসেন্স নেওয়া হয়নি। যদি কেউ লাইসেন্স ছাড়া কারখানা স্থাপন করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জানতে চাইলে যশোর পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক নুরুল আলম বলেন, ওই এলাকায় আমাদের কাছ থেকে কেউ পরিবেশের ছাড়পত্র নেয়নি। খোঁজখবর নেওয়া হবে। ছাড়পত্র ছাড়া কেউ যদি কারখানায় স্থাপন করে তা বন্ধ করে দেয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যত বড়ই প্রভাবশালী হোক না কেন  জেলা পরিষদের সম্পদ কেউ যদি জবরদখল করে কলকারখানা স্থাপন করেন তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments (0)

Your email address will not be published. Required fields are marked *