নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি হয়ে যাওয়া ৭টি ইজিবাইক ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধারসহ আন্তঃজেলা চোরচক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত যশোর ও গোপালগঞ্জের ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করেন যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল।
শনিবার (২৩ই মার্চ) দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এর মাধ্যমে সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নড়াইল জেলার নড়াগাতি থানার কলাবাড়িয়া গ্রামের বুলু মিয়ার পুত্র সেলিম শেখ ওরফে হৃদয় (৩৮).গোপালগঞ্জ জেলা সদরের ঘোষেরচর উত্তর পাড়া গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে খোকন ঠাকুর (৪৫) ও আরুয়া কংসুক গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান সরদারের ছেলে মেজবাহ উদ্দিন (৩৭)। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সেলিম শেখ ওরফে হৃদয়ের বিরুদ্ধে ৮ টি মামলা রয়েছে এবং খোকনের বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে।

প্রেস ব্রিফিং এ যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রুপণ কুমার সরকার বলেন, গত ১৫ই মার্চ দুপুরে শহরের হালদার রোড এলাকা থেকে ইজিবাইক চালক কামাল হোসেনের ইজিবাইক ভাড়া করে দুই জন অজ্ঞাত ব্যক্তি। ইজিবাইক ভাড়া নিয়ে পরে তারা চালকের কাছ থেকে কৌশলে ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যায়।
এঘটনায় চালক কামাল হোসেন যশোর কোতোয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দেন। জেলা পুলিশের পক্ষে মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে দেন যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের নিকটে। আমরা তদন্ত করে আসামিদের সনাক্ত করি এরপর বৃহস্পতিবার রাতে যশোর শহরের উপ-শহর এ ব্লক এলাকা থেকে প্রাইভেটকারসহ চোর চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তাদের স্বীকারোক্তিতে শুক্রবার রাতে গোপালগঞ্জ সদরের আড়ুয়া কংশুক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে একটি গ্যারেজ থেকে বিভিন্ন সময়ে চুরি যাওয়া ৭টি ইজিবাইক উদ্ধার ও গ্যারেজ মালিককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই। পরে আরো অধিকতর তদন্তে জানতে পারি বরিশাল পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার বিলাবিলাস বাজার সংলগ্ন সাত্তার হালদারের ছেলে ইউপি সদস্য শানু মেম্বার এই চোর চক্রের মূল হোতা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে। সে বর্তমানে ঢাকার আশুলিয়া (শুটিংবাড়ী এলাকার ভাড়াটিয়া) এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে এই চোর চক্রের নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করেন। তার নির্দেশেই এসব ইজিবাইক ও প্রাইভেট কার চুরি করা হতো এবং এক জেলার প্রাইভেট কার ও ইজিবাইক অন্য জেলায় গ্যারেজে নিয়ে বিক্রি করা হতো এবং সেগুলো রাতারাতি খুলে ফেলা হতো। চোরের সদ্দার শানু মেম্বারকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।