টাকা দিলেই বাংলাদেশে মেলে করোনা সার্টিফিকেট: ইতালি পত্রিকা

নিউজটি শেয়ার লাইক দিন

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ থেকে সোমবার ইতালিতে যাওয়া একটি বিশেষ ফ্লাইটে ২১ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর দেশটির প্রভাবশালী প্রায় সবগুলো পত্রিকার প্রধান শিরোনামে বুধবার নেতিবাচকভাবে বাংলাদেশের খবর প্রকাশ করা হয়েছে। অর্থের মাধ্যমে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট নিয়ে এই প্রবাসীরা ইতালিতে গেছেন বলে শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে।

দেশটির শীর্ষস্থানীয় দৈনিক ইল মেসেজেরো (দ্য মেসেঞ্জার) বুধবার প্রধান শিরোনাম করেছে ‘বাংলাদেশ থেকে ভুয়া করোনার সার্টিফিকেট’।
একই ধরনের শিরোনাম করেছে আরেক প্রভাবশালী দৈনিক লা নুয়োভা।
এছাড়া দেশটির ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমেও এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে কিছু বাংলাদেশির কারণে ইতালিতে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হওয়ার বিষয়টি।
কঠোর ভাষায় লেখা সম্পাদকীয় কলামেও বাংলাদেশিদের নজরদারির আওতায় আনার জন্য দাবি তোলা হচ্ছে।
এদিকে বুধবার কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে রোম বিমানবন্দরে অবতরণের পর উড়োজাহাজে থাকা ১২৫ বাংলাদেশিকে নামতে দেওয়া হয়নি বলে ইল মেসেজেরো পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের খবরে জানানো হয়েছে। ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে খবরে বলা হয়, জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রয়োজন নেই এমন সব বাংলাদেশিকে এই ফ্লাইটেই ফেরত পাঠানো হবে। এয়ারলাইন সংস্থার ভাষ্য, তারা যাত্রীদের দোহা থেকে নিয়ে এসেছেন। এতে কোনো নিয়ম ভঙ্গ হয়নি।
ইতালিতে বসবাসকারী একজন প্রবাসী জানান, কঠোর লকডাউনের মাধ্যমে করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এনেছে ইতালি। গত কয়েকদিনে যত ফ্লাইট বাংলাদেশ থেকে ইতালি গেছে তার প্রায় সবগুলোতেই কেউ না কেউ কোভিড-১৯ পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। সেখানে পরীক্ষায় যাদের করোনা ধরা পড়েছে তারা সবাই বাংলাদেশ থেকে ভুয়া রিপোর্ট নিয়ে গেছেন। এতে ইতালিতে নতুন করে যেমন স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে তেমনি বাংলাদেশি প্রবাসীদের সম্মানহানি হয়েছে।
ইতালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মঙ্গলবার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি যাত্রীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার কথা জানানোর পর সাত দিনের জন্য বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট নিষিদ্ধ করা হয়।
ওই প্রবাসী বলেন, “ইতালিতে লকডাউনের শুরুর দিকে যারা বাংলাদেশে গিয়েছিলেন তারাই এখন ইতালিতে ফিরছেন। চাকরি বাঁচাতে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করে বিশেষ ফ্লাইটের টিকিটে তারা ফিরছেন। কিন্তু কিছু প্রতারকের জন্য এখন প্রবাসী সবাইকেই বিপদে পড়তে হলো। বাংলাদেশ থেকে আসা কেউ কোয়ারেন্টাইন ভঙ্গ করে বাইরে বের হলেই তিন মাসের কারাদণ্ডের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।”
ইতালিতে বাংলাদেশিরা কোনো ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গত কয়েক দিন ধরেই বাংলাদেশ থেকে ‘করোনাভাইরাস আমদানি’ নিয়ে ইতালির গণমাধ্যমে আলোচনা চলছিল। গতকাল থেকে এটা নতুন মাত্রা পেয়েছে। কর্মঠ হওয়ায় বাংলাদেশিদের সুনাম ছিল। এখন স্থানীয়রা আমাদের সুনজরে দেখছে না। গত মার্চে চীনের নাগরিকরা ইতালিতে বৈষম্যের শিকার হচ্ছিল। চীন থেকে ভাইরাসটি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ায় এমন ঘটনা ঘটছিল। এখন অনেক বাংলাদেশির সঙ্গে সেরকমটা ঘটছে।”

Comments (0)

Your email address will not be published. Required fields are marked *