মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় নাহিদ-আফসানা ও দুই সন্তান

নিউজটি শেয়ার লাইক দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাহিদুর রহমান, তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানজী এবং তাদের দুই শিশু সন্তান রোজাইনা ইনায়া ও মুনাইনা ইহানার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ৩টার দিকে যশোরের মনিরামপুর পৌর এলাকার মোহনপুর গ্রামের বাঁধাঘাট ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়। সেখানে নাহিদুর রহমানের মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন পরিবারের চার সদস্য।

পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে হারানোর শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা। যে বাড়িতে ছিল চারজনের হাসি-আনন্দ, সেই পরিবারেই এখন শুধুই শোক আর শূন্যতা। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামে স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন প্রতিবেশীরাও।

নিহত নাহিদুর রহমানের বড় ভাই জাহিদুর রহমান জানান, গত ১৭ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে তার ছোট ভাই নাহিদুর রহমান (৪১), ভাইয়ের স্ত্রী আফসানা মতিন তানজী (৩৬) এবং তাদের দুই সন্তান রোজাইনা ইনায়া (৭) ও মুনাইনা ইহানার (৩) কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই দিনই রিসোর্টের একটি কক্ষ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরদিন স্বজনেরা কক্সবাজারে পৌঁছে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো তাদের পরিবারের সদস্যদের বলে ধারণা করেন। কিন্তু অগ্নিদগ্ধ হওয়ায় মরদেহ দেখে পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। দীর্ঘ অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গ থেকে চারজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ, পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমানসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিহতদের চাচাতো ভাই খালিদ হোসেন জানান, মরদেহ হস্তান্তরের সময় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দাফন সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বুধবার ভোরে অ্যাম্বুলেন্সে করে চারজনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি মোহনপুরে আনা হয়। তাদের দাফনের জন্য নাহিদুর রহমানের মায়ের কবরের পাশে খোঁড়া হয় পাশাপাশি চারটি কবর। বেলা ৩টার দিকে জানাজা শেষে সেখানেই তাদের দাফন করা হয়।

মায়ের কবরের পাশে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন নাহিদুর রহমান। কক্সবাজারের একটি রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিভে গেল একই পরিবারের চারটি প্রাণ। তাদের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো মোহনপুর গ্রামে।

Comments (0)

Your email address will not be published. Required fields are marked *