নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বজনদের বাঁধায় যশোর কারবালার কবরস্থানেই আবুল কালাম আজাদ নামে এক বৃদ্ধের দাফন থমকে যায়। স্বজনদের দুই পক্ষের বাঁধ অনুবাদে একপর্যায়ে হাত হাতিও শুরু হয়। পরে স্থানীয়দের আপোষ মীমাংসার প্রতিশ্রুতিতে লাশটি দাফন করা হয়।
এ চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (৩ই অক্টোবর) দুপুরে যশোর কারবালা কবরস্থানে। আবুল কালাম আজাদ সিতারামপুর গ্রামের বাসিন্দা ।মরদেহ দাফনের প্রস্তুতিকালে এ ঘটনা ঘটে।
স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দাফনের প্রস্তুতি চলাকালে আবুল কালাম আজাদের ভাগনী মাসুমার স্বজনেরা দাফনে বাধা দেন। তাঁদের দাবি, সম্পত্তির বণ্টনে মাসুমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়।
তবে আবুল কালাম আজাদের অপর স্বজনেরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি আবুল কালাম আজাদ নিজেই নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করেছিলেন। এছাড়া তাঁর বাবার মৃত্যুর পর পারিবারিক সম্পত্তি ভাইবোনদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হয়েছিল বলেও তাঁরা দাবি করেন।
এদিকে মরদেহ সামনে রেখে কবরস্থানে স্বজনদের এমন বিরোধে আশপাশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের আপস মীমাংসার প্রতিশ্রুতিতে দাফনে বাধা দেওয়া পক্ষ কবরস্থান ত্যাগ করলে আবুল কালাম আজাদের মরদেহ কারবালা কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নজরুল ইসলাম নামে এক প্রবীণ ব্যক্তি জানান, সম্পত্তি নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা পারিবারিকভাবে অথবা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা উচিত। কিন্তু একজন মৃত ব্যক্তির দাফনকে কেন্দ্র করে কবরস্থানে এমন বিরোধ ও হাতাহাতির ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। দিন দিন মানুষের ভিতরে মনুষত্ববোধ চলে যাচ্ছে। যে কারণে মৃত ব্যক্তি কে দাফন করার সময়ে কবরস্থানে এ ধরনের হট্টগোল ও হাতাহাতি হচ্ছে।