নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর অভয় নগরের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত অভয়নগর নওয়াপাড়ার পৌর বিএনপির পদ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বালিতে পুঁতে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চার কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের মামলায় আটক হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে খুলনার রোজ গার্ডেন নামে একটি রেস্টুরেন্ট থেকে তাকে যশোরের গোয়েন্দা পুলিশের একটি দলও খুলনা মহানগর পুলিশের একটি দল যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন। আটকের পরপরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অভয়নগর নিয়ে আসেন তার বাড়িতেও ও তার পার্কে অবৈধ অস্ত্র খোঁজে।
উল্লেখ্য গত রোববার অভয়নগর নওয়াপাড়ার জাফ্রিদী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুর স্ত্রী আসমা খাতুন বাদী হয়ে বিএনপি নেতাসহ ছয়জনের নামে অভয়নগর থানায় চাঁদাবাজি একটি মামলা করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামী ও জনির সহযোগী ডিশ ব্যবসায়ী মিঠুকে সোমবার গ্রেপ্তার করেন পুলিশ।
অভিযুক্তরা– নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির পদ স্থগিত হওয়া সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি, পৌর বিএনপির ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট হোসেন, কনা ইকো পার্কের মালিক কামরুজ্জামান, নওয়াপাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান দপ্তরী ও গরুহাটখোলার সৈকত হোসেন হিরা। মিঠুকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে পাঠালে বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠান। তবে মামলার প্রধান আসামী জনি ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে চলে যান।

ওই সময়ে থানার এজাহার উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর শাহনেওয়াজ কবীর টিপুকে নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনির অফিসে ডেকে নিয়ে যান সৈকত হোসেন হিরা নামে এক ব্যক্তি। জনি তাঁকে মারধর করেন এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ২ কোটি টাকা দাবি করেন। এর পর টিপুর স্ত্রী সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে জনির প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে ২ কোটি টাকা রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) করেন। টাকা পেয়ে ওই দিন টিপুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে টিপু গ্রামের বাড়ি চলিশিয়া থেকে মোটরসাইকেলে বাজারে যাচ্ছিলেন। পথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেট পার হলে হিরা তাঁর গতিরোধ করেন। এর পর বেলা ৩টা পর্যন্ত টিপুর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে জানতে পারেন, টিপুকে বিএনপি নেতা জনির কণা ইকো পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। টিপুর স্ত্রী সেখানে গেলে জনি, সম্রাট হোসেন ও নওয়াপাড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে বাদীকে মারধর ও বুক পর্যন্ত গর্ত খুঁড়ে বালুচাপা দিয়ে আরও ২ কোটি টাকা দাবি করেন। এ সময় টিপু বাধ্য হয়ে তাঁর ম্যানেজারকে ফোন করে টাকা দিতে বলেন। ম্যানেজার প্রেস ক্লাবের সম্পাদক মফিজের অ্যাকাউন্টে পূবালী ব্যাংক থেকে ৬৮ লাখ ও সাউথ বাংলা ব্যাংক থেকে ৩২ লাখ টাকা আরটিজিএস করেন। এ সময় মফিজুর আরও এক কোটি টাকার চেক আদায় করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) আবুল বাশার বলেন, সকালে আটকের পর পরই তাকে অভয় নগরের নিয়ে আসা হয়েছে। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা তার দেখানো স্থানগুলোতে অভিযান চালাচ্ছে। নির্যাতনের কোন ধরনের টরচার সেল ও অবৈধ অস্ত্র আছে কিনা। এরপর গণমাধ্যমের সামনে তাকে হাজির করা হবে বলে তিনি জানান।