যুবতী ধর্ষণের অভিযোগে ভূয়া মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা গ্রেফতার

নিউজটি শেয়ার লাইক দিন

যুবতী ধর্ষণের অভিযোগে ভূয়া মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা গ্রেফতার 

নিজস্ব প্রতিবেদক: যুবতী ধর্ষণের অভিযোগে ভূয়া মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সুমন বসু (৩৬) নামে এক প্রতারক গ্রেফতার হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মানিকহার গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) যশোরের কর্মকর্তারা। আটক সুমন বসু একই গ্রামের সঞ্জীব বসুর ছেলে।

পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, অভয়নগরের এক যুবতী কৃষিতে ডিপ্লোমা পাশ করার পর কোনো চাকরি না পাওয়ায় অর্থ উপার্জনের জন্য অনলাইনে কাজ করে থাকেন। প্রতারক সুমন বসুর সাথে তার ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয়। এ সময় সুমন বসু নিজেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিদর্শক হিসেবে পরিচয় দেন। তাদের মধ্যে পরিচয় হওয়ার পর তারা মোবাইল ফোনে কথা বলতেন। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর থেকে সুমন বসু ওই যুবতীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখাতেন। পরবর্তীতে প্রতারক সুমন বসু বিভিন্ন সময় যশোরের একাধিক আবাসিক হোটেল ও নড়াইলের অরুনিমা রিসোর্টে রুম ভাড়া নিয়ে যুবতীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কয়েক দফা ধর্ষণ করেন। এছাড়া ব্যক্তিগত বিভিন্ন প্রয়োজন দেখিয়ে ধার হিসেবে যুবতীর কাছ থেকে ১৪ লাখ ৮৯ হাজার ৮৮০ টাকা নেন সুমন বসু। কিন্তু এরই মধ্যে সুমন বসুর নানা আচরণে সন্দেহ হলে ওই যুবতী সুমন বসুর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, তিনি বিবাহিত। তার সন্তানও আছে। তখন যুবতী ধারের টাকা ফেরত চাইলে সুমন বসু অস্বীকার করেন এবং তাকে বিয়ে করবেন না বলে জানিয়ে দেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী যুবতী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য পিবিআই যশোর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার রেশমা শারমিনের নেতৃত্বে এসআই মো. হাবিবুর রহমান ও এসআই স্নেহাশিস দাশ গত মঙ্গলবার সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মানিকহার গ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রতারক সুমন বসুকে আটক করেন। পরে এ ঘটনায় ভুক্তভোগী যুবতী প্রতারক সুমন বসুকে আসামি করে অভয়নগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। বুধবার আটক সুমন বসুকে যশোরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

Comments (0)

Your email address will not be published. Required fields are marked *