নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের বহুল আলোচিত ফিরোজা মহল রাশেদা মহল নাম পরিবর্তন করেও বাঁচতে পারলেন না।
বুধবার (৩ই জুলাই) দুপুরে যশোর রেলগেটে অবস্থিত ভবনটি হেফাজতে নেয় যশোর জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সমন্বয়ের একটি দল।
ভবনটি পূর্বে যশোর মনিরামপুর উপজেলার গলদা এলাকার মৃত রফিক উল্লাহর স্ত্রী ফিরোজা বেগম (৬৩) নামে থাকলেও দুর্নীতির দায় এড়াতে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের গাড়ি চালক মহসীন হোসেন (৫৩) পরে রাশেদা ভিলা নামকরণ করেন। তার বর্তমান ঠিকানা-হোল্ডিং নং-৬, প্লক-মি, শ্যামলী হাউজিং লিঃ, প্রথম প্রকল্প, শেখেরটেক, আদাবর, ঢাকা।
উল্লেখ্য গত কয়েক বছর আগে ভবনটি নিয়ে ও তার নাম পরিবর্তন নিয়ে সংবাদমাধ্যমে ফলোও করে লেখালেখি হয়। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন ঢাকা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক খন্দকার নিলুফা জাহান বিষয়টি আমলে নিয়ে বিল্ডিংটির মালিক মহাসিন হোসেনের শাশুড়ি ফিরোজা বেগমের নামে আয় বহির্ভূত বিপুল পরিমাণের সম্পদ অর্জন করায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঢাকা দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১ কোটি ২৬ লক্ষ ৮২ হাজার ২২৭ টাকা মূল্যমানের সম্পদ ও ব্যাংক খণের তথ্যাদি প্রদর্শন না করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করে এবং অসাধু উপায়ে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসংগতিপূর্ণ ১ কোটি ৭৪ লাখ ৬৯ হাজার টাকা মূল্যমানের সম্পদ অর্জন করে দখলে রাখেন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (বরখাস্ত) গাড়িচালক মহসীন হোসেন। তিনি যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া গ্রামের আবদুল ওহাব মুনসুরের ছেলে। বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তর করে ফিরোজা বেগমকে উল্লিখিত সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেন।
হেফাজতে নেয়ার ভিডিও দেখতে, এখানে ক্লিক করুন
আসামী ফিরোজা বেগমের এর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হওয়ায় আসামী মোছাঃ ফিরোজা বেগমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬১) ধারা মোতাবেক সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারী করা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে গত ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে ফিরোজা বেগম দুর্নীতি দমন কমিশনের সম্পদ বিবরণীতে তার যাবতীয় সম্পদের তথ্য সম্বলিত সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে আসামী ফিরোজা বেগম তার নিজ নামে অর্জিত মোট ১ কোটি ৮ লাখ ১১ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যমানের স্থাবর সম্পদ প্রদর্শন করেছেন। তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে ১ কোটি ৮২ লক্ষ ৪৭ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যমানের স্থাবর এবং ২ লাখ ২৬ হাজার ৫ শত টাকা মুলামানের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ১ কোটি ৮৪ লাখ ৭৪ হাজার ৪শত টাকা মুল্যমানের সম্পদ অর্জন করে দখলে রাখার এবং ব্যাংক খণ ১ লাখ ৪ হাজার ৫২৩ টাকার তথ্য-প্রমাণাদি পাওয়া যায়। অর্থাৎ দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে তিনি বিল্ডিং নির্মাণ বাবদ ৭৪ লাখ ৩৬ হাজার ৬শত টাকা ব্যয় কম প্রদর্শন করে, কাঠের ও স্টালের আসবাবপত্রের পরিমান ও মুল্য প্রদর্শন না করে ব্যাংক ঋণের স্থিতি বেশি প্রদর্শন করে এবং ব্যাংক খণের মুল (আসল), মুনাফা এবং অনান্য চার্জ বাবদ পরিশোধিত মোট ১ কোটি ২৬ লাখ ৮২ হাজার ২শত টাকা মূল্যমানের সম্পদের তথ্য দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে প্রদর্শন না করে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখিত আত্মীয় জহরুল হক এবং প্রবাসী আত্মীয় স্বজনদের নিকট থেকে খণ গ্রহণের স্বপক্ষে কোন তথ্য প্রমাণাদি দাখিল করতে পারেননি। উক্ত খণ গ্রহণের তথ্য তিনি তার আয়কর নথিতেও উল্লেখ করেননি। মোছাঃ ফিরোজা বেগম এর ব্যাংক খণ ছাড়া কোন আয়ের উৎসই গ্রহণ মর্মে প্রতীয়মান হয় না। অর্থাৎ তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসংগতিপূর্ণ অর্জিত সম্পদের পরিমান ১কোটি ৭৪ লক্ষ ৬৯ হাজার ৯শত টাকা ২ নং আসামী মহসীন হোসেন (বর্তমানে বরখান্ত), ইমিগ্রেশন ও পাসর্পোট অধিদপ্তর গাড়ি চালানো অবস্থায় দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর ও রুপান্তর করে মোছাঃ ফিরোজা বেগমকে উল্লিখিত সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন। উল্লেখ্য যে, উক্ত নথি সংক্রান্তে অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা শেষে দুদকের প্রধান কার্যালয় উপ পরিচালক সুভাষ চন্দ্র দত্ত অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করেন। তার পরিপেক্ষিতে আসামী (১) মনিরামপুর গলদা গ্রামের মৃত রফিকুল্লাহর স্ত্রী মোছাঃ ফিরোজা বেগম ও (২) ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (বরখাস্ত) গাড়িচালক মোঃ মহসীন হোসেন, বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬২) ও২ ৭১) ধারায় এবং দন্ডবিধির ১০৯ ধারাসহ মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২ ) ৪(৩) ধারায় ১ টি মামলা রুজুর অনুরোধ করা হয়। মামলার তদন্তকালে অন্য কারো সংগ্রিষ্টতা পাওয়া গেলে তা আমলে নেয়া হবে।
বিষয়টি নিয়ে যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান বলেন, আদালত ভবনটি আমাদেরকে জিম্মায় নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আজ দুপুরে ভবনটি আমরা যশোর দুর্নীতি দমন কমিশন যশোরের কর্মকর্তা, গণপূর্ত কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের লোকজন ভবন গিয়ে ভবনটি কব্জায় নেয়। এখন থেকে ভবনটি ভাড়া উত্তোলন করবে জেলা প্রশাসকের লোকজন। প্রতি ৬ মাস অন্তর অন্তর এ বিষয়ে আদালতে উপস্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।