তরিকুল ইসলাম মিঠু,যশোর :যশোরে ৬ টি নির্বাচনী আসনে ১১জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ১৮ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এর মধ্যে যশোর শার্শা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সোয়ারব হোসেন ও নাজমুল হোসেনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টির আখতারুজ্জামানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
যশোর (ঝিকরগাছা-চৌগাছা)-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম হাবিবুর রহমান মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) প্রার্থী শামসুল হকের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
যশোর সদর ৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহিত কুমার নাথের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মোহাম্মদ তৌহিদুজ্জামান, তৃণমূল বিএনপি’র প্রার্থী কামরুজ্জামান, জাকের পার্টির প্রার্থী মহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রার্থী নুরুজ্জামানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
যশোর (বাঘারপাড়া-অভয়নগর)- ৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সন্তোষ কুমার অধিকারীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
যশোর মনিরামপুর-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল হাসান বারি, হুমায়ূন সুলতান ও আমজাদ হোসেন লাভলুর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তাছাড়া এ আসনের জাকের পার্টির প্রার্থী হাবিবুর রহমানের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
যশোর কেশবপুরের-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসাইন মোহাম্মদ ইসলাম ও আজিজুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোরের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান ও জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার।
যশোরের সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে বাতিলকৃতদের অনেকের ব্যাংকের ঋণ খেলাপি। তাছাড়া অনেক প্রার্থীর টিন নাম্বার, আয়কর না থাকা, ও হলফনামায় তথ্যের গরমিল পাওয়ার তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য গত ত্রিশে নভেম্বর যশোরের ৬টি নির্বাচনী আসনে ১৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৪৬ জন মনোনয়ন দাখিল করেছেন।
যশোর শার্শা-১ আসনে নৌকার পাওয়া শেখ আফিল উদ্দিন সহ ৬ জন। তাদের মধ্যে আশরাফুল আলম লিটন (স্বতন্ত্র), সোহরাব হোসেন (স্বতন্ত্র), নাজমুল হাসান (স্বতন্ত্র), সবুর খান (জাকের পার্টি), আখতারুজ্জামান (জাতীয় পার্টি)।
যশোর (ঝিকরগাছা-চৌগাছা)-২ আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পাওয়া ডঃ তৌহিদুজ্জামান তুহিন সহ ৭ জন। এ আসনে মনিরুজ্জামান মনির (স্বতন্ত্র), এস এম হাবিবুর রহমান (স্বতন্ত্র), আবুল আউয়াল (বাংলাদেশ কংগ্রেস), সাফারুজ্জামান (জাকের পার্টি), ফিরোজ শাহ (জাতীয় পার্টি), শামসুল হক (বিএনএফ)।
যশোর (বাঘারপাড়া-অভয়নগর)- ৪ আসনে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন নৌকা প্রতীক পাওয়া এনামুল হক বাবুল সহ ৭ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন বর্তমানের এমপি রণজিৎ কুমার রায়, সন্তোষ কুমার অধিকারী, লিটন মোল্লা (জাকের পার্টি), জহিরুল হক (জাতীয় পার্টি), লেফটেন কর্নেল এম সাব্বির আহমেদ অবসরপ্রাপ্ত (তৃণমূল বিএনপি), সুমিত কুমার মন্ডল (বাংলাদেশ জাতীয় আন্দোলন), ইউনুস আলী (ইসলামী আন্দোলন)।
যশোর-৩ আসনে নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন এমপি কাজী নাবিল আহমেদ সহ ১০ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাখিল করেছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল ইসলাম মিলন (স্বতন্ত্র), মোহিত কুমার নাথ (স্বতন্ত্র), মারুফ হাসান কাজল (বিকল্পধারা), তৌহিদুজ্জামান (খিলাফত আন্দোলন), মাহাবুব আলম (জাতীয় পার্টি), কামরুজ্জামান (তৃণমূল বিএনপি), মহিবুল ইসলাম (জাকের পার্টি), নুরুজ্জামান বাংলাদেশ (জাতীয়বাদী আন্দোলন), অ্যাডভোকেট সুমন কুমার রায় (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি)।
যশোর মনিরামপুর ৫ আসনের নৌকা প্রতিকের বর্তমান এমপি স্বপন ভট্টাচার্য সহ ৯ জন মনোয়ন দাখিল করেছিলেন। আমজাদ হোসেন লাভলু (স্বতন্ত্র), ইয়াকুব আলী (স্বতন্ত্র), হুমায়ুন সুলতান (স্বতন্ত্র), কামরুল হাসান বারী (স্বতন্ত্র), মাওলানা নুরুল্লা আব্বাসী (ইসলামী ঐক্য জোট), হাবিবুর রহমান (জাকের পার্টি), আবু নাসের মোহাম্মদ মোস্তফা (তৃণমূল বিএনপি)।
যশোর কেশবপুর-৬ এ নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন দাখিল করেছিলেন শাহীন চাকলাদার সহ ৬ জন। এদের মধ্যে এইচ এম আমির হোসেন (স্বতন্ত্র), আজিজুল ইসলাম (স্বতন্ত্র), হোসাইন মোহাম্মদ ইসলাম (স্বতন্ত্র), জিএম হাসান (জাকের পার্টি), সাইদুজ্জামান জাকের (পার্টি)।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিলো ৩০ নভেম্বর। মনোনয়নপত্র বাছাই হয় ১ থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৭ ডিসেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ১৮ ডিসেম্বর। সেদিন থেকেই প্রচারণা শুরু করতে পারবেন প্রার্থীরা। প্রচারণার জন্য ২২ দিন সময় পাবেন প্রার্থীরা। নির্বাচনে ৬৬ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৫৯২ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সাথে জানুয়ারি। ভোট চলবে সকাল আটটা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত।
গত ২ নভেম্বর সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটারসংখ্যা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৩৩ জন ভোটার। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৭ লাখ ৭১ হাজার ৫৭৯ জন এবং নারী ভোটার ৫ কোটি ৮৯ লাখ ১৯ হাজার ২০২ জন। আর হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৮৫২ জন। সম্ভাব্য ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ১০৩টি এবং ভোটকক্ষ ২ লাখ ৬১ হাজার ৯১২।