তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর প্রতিবেদক: ৪শ’ টাকার চামড়া ১শ’ টাকায় বিক্রি হয়েছে দেশের সর্ব বৃহত্তম রাজারহাট চামড়ার মোকামে। হাটে চামড়া বিক্রি করতে এসে চরম লোকসানে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। সোমবার মুসলিম ধর্মালম্বীদের কুরবানী ঈদের পরেই আজ শনিবারই বড় পরিসরে চামড়ার হাট বসেছে এ হাটে।
ঈদ পরবর্তীতে হাটে বিপুল পরিমাণে চামড়া নিয়ে ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চরম লোকসান গুনে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। এই হাঁটে সরকারের নির্ধারিত বেধে দেয়া দামের অর্ধেক দামে বেচাকেনা হয়েছে চামড়া।
এ হাটে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ছাড়াও ফরিদপুর, রাজশাহী, পাবনা, নাটোর এবং ঢাকার বড় বড় ব্যবসায়ীরা চামড়া বেচাকেনা করেন। এ হাটে ছোট-বড় মিলিয়ে তিন শতাধিক আড়ৎ রয়েছে। শনি ও মঙ্গলবার দুইদিন বসে হাট। তবে শনিবারে সবথেকে বড় পরিসরে হাট বসে এখানে।
ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী সাধন জানান, তিনি এবারের কুরবানীর ঈদে প্রতিটি গরুর চামড়া কিনেছিলেন ৪০০ টাকা দরে। কিন্তু হাটে নিয়ে এসে সেই চামড়া প্রতিটি বিক্রি করেছেন ১০০ টাকা দরে। তিনি চামড়া ব্যবসা আর করবেন না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
চামড়া ব্যবসায়ী সম্রাট জানান, এবার কোরবানির ঈদে ৬০০পিস বড় গরুর চামড়া ক্রয় করেছিলেন। কিনেছিলেন ৮শ’টাকা, কিছু ৯শ’টাকা আবার কিছু কিনেছিলেন হাজার টাকা দরে। কিন্তু এসব চামড়া শনিবারে রাজারহাটের চামড়ার হাটে নিয়ে এসে বিক্রি করেছেন গাভি গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। আর ষাঁড় গরুর চামড়া বিক্রি করেছেন ৮০০ টাকা দরে। এসব চামড়া বিক্রি করে তার লোকসান হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সিন্ডিকেটের কাছে পুরো চামড়া ব্যবসায়ী জিম্মি। এমনকি সরকার ও জিম্মি। তাই সরকারের বেঁধে দেয়া নির্ধারিত দাম অনুযায়ী চামড়া কিনেছিলাম। কিনেই এখন বিপদে পড়েছি। বাজারে বাস্তবতা ভিন্ন। সরকার বেধে দেয়া দামের অর্ধেক দামে বেচাকেনা হচ্ছে এ হাটে চামড়া। হাটে সরকারি লোকের মনিটরিং অভাবে এ সমস্যা আরো প্রকট হয়েছে বলে জানান এ ব্যবসায়ী।
চামড়া ব্যবসায়ী গোবিন্দ জানান, তিনি এই ঈদে ৫০ পিস ছাগলের চামড়া কিনেছিলাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। কিন্তু বাজারে নিয়ে এসে প্রতিটি চামড়া বিক্রি করেছি ১০ টাকা করে। তিনি আরো জানান তার মত বাজারে কয়েক শতাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রয়েছে। তাদের প্রত্যেকেই এ বছর সরকারের বেঁধে দেয়া দাম অনুযায়ী এলাকা থেকে চামড়া ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু বাজারে এসে দেখে সরকারের বেঁধে দেয়া দামের অর্ধেক দামে হাঁটে চামড়া বেচাকেনা হচ্ছে। এসব ব্যবসায়ীরা সবাই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকে ভবিষ্যতে আর চামড়ার ব্যবসাই করবে না বলেও জানান এ ব্যবসায়ী।
আড়ৎদার হাসানুজ্জামান হাসু বলেন, চামড়ার হাটে বিগত বছরের তুলনায় চামড়া অনেক কম। সে কারণে চামড়ার দাম বেশি হওয়ারই কথা। কিন্তু চামড়ার দাম কম হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমিও শংকিত বলে জানান এ ব্যবসায়ী।
চামড়ার আড়ত ব্যবসায়ী ও বৃহত্তর যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন বলেন, সরকারের নির্ধারিত বেঁধে দেওয়া দামে মৌসুমীও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এবারও চামড়া ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু বাজার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। এর ফলে নির্ধারিত দামের অর্ধেক দামে ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে। ফলে এসব ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে চামড়ার হাট মনিটারিং করা হলে ক্ষুদ্র ও মৌসুমী ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কিছুটা কম হতো বলে জানান এ ব্যবসায়ী।
বিষয়টি নিয়ে রাজারহাট চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আকিল আহমেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে সাংবাদিকের সঙ্গে কিছুই বলতে পারবেন না বলে জানান তিনি।
রাজারহাট চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন মুকুল বলেন, অর্থ সংকটে অনেকে চামড়া কিনতে পারছেন না। ট্যানারি মালিকদের পাশাপাশি প্রান্তিক ব্যবসায়ীদেরও ঋণ দেওয়া গেলে সম্ভাবনার এই সেক্টর আরো শক্তিশালী হবে। তবে সরকারের বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত দামের চেয়ে কম দামে চামড়া বেচা কেনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন চামড়ার মান ভালো না হওয়ার কারণেই কম দামে চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে বলে দাবি করেন।