নিজস্ব প্রতিবেদক: ১০ লাখ টাকা দাবি করে না পেয়ে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে যশোর চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ ইন্সপেক্টর রাকিবের বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের কনফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের এ অভিযোগের তথ্য তুলে ধরেন মাসুম কবীর নামে এক ব্যবসায়ী।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন,তিনি ডেন্টাল সেবা কেন্দ্র ডেন্টিস্ট পয়েন্টের ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় ও পূনর্বাসন কেন্দ্র, ৩৭ রেল রোড যশোরের মালিকানা সদস্য ছিলেন। কেন্দ্রটির
ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল কবীর তুহিনের সার্বিক দায়িত্বে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হচ্ছিলো। ওই সময়ে যশোর চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ ইন্সপেক্টর রকিবুজ্জামান রাকিব দায়িত্বে ছিলেন।
গত ২১ই মে ২০০২১ তারিখ দিবাগত রাতে যশোর শহরের রেল রোড ফুড গোডাউনের বিপরীতে অবস্থিত যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় ও পূনর্বাসন কেন্দ্রে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে মাহফুজুর রহমান মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় ঐদিন রাত ৯টার সময়ে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ রকিবুজ্জামান রকিব আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তিনি আমাকে বলেন এঘটনায় ১০ লক্ষ টাকা দিলে আমাকে আসামি করা হবে না।
আমি টাকা দিতে আস্বীকার করলে তিনি আমাকে হুমকি দেন এবং ২৩ই মে ২০২১ তারিখে দিবাগত রাত ৩টা ৩০ মিনিটে আমাকে আমার বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে যশোর কোতয়ালী থানায় নিয়ে যান। এরপর আমাকে মামলার আসামি হিসেবে এজাহার ভুক্ত আসামি করেন। পরবর্তীতে স্বাক্ষী ও আসামীদের উপর চাপ প্রয়োগসহ ভয়ভীতি দেখানো আমার নাম জড়ানোর জন্য। কিছুদিন পর ওই মামলা থেকে আমি জামিন নিয়ে বের হই।
এরপর আবার গত ১২ই ৮ আগস্ট ২০২২ তারিখে পুলিশ আমার কর্মস্থল যশোর ডেন্টিস্ট পয়েন্ট থেকে আমাকে রাত ৯টায় কোতয়ালি থানায় ডেকে নিয়ে আটক করে। আমি জানতে পারি আমার বিরুদ্ধে যশোর শহরের বেজপাড়ার বাসিন্দা মিহির মিত্র নামের এক ব্যক্তি প্রতারণা মামলা দায়ের করেছেন এবং আমাকে ওই মামলায় আটক করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, মিহির নামের কোন ব্যক্তিকে তিনি কখনো চেনেন না । ফলে তার সাথে কোন রূপ লেনদেন বা প্রতারণা সুযোগ নেই। কথিত ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আমার অংশীদারিত্বে তৎকালিন পরিচালিত যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রোগী ভর্তি করানোকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনে তার (মিহির) সাথে প্রতারণা করেছি। কিন্তু যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে অংশীদার হিসেবে পরিচালক হলেও সকল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল কবির তুহিন। আমি আমার চাকরি ক্ষেত্র ডেন্টিস্ট পয়েন্টের ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে থাকায় মাদকসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের আর্থিক লেনদেনসহ আয়-ব্যয়ের সকল কিছুর দেখভাল করতেন তিনি। মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রের কোন লেনদেন করার সুযোগ আমার ছিল না। কেন্দ্রে রোগী ভর্তির নিয়ম অনুযায়ী কোন রোগী ভর্তি হতে হলে রোগীর অভিভাবক ও কেন্দ্রের মধ্যে একটি লিখিত চুক্তি করা হতো। ভর্তির পর রশিদের বিনিময়ে টাকা গ্রহণ করা হতো। মিহির যে মামলা করেছেন তার সাথে এমন কোন তথ্য-প্রমাণ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
গত ১২ আগস্টে ২০২২ তারিখে মিহির মিত্রের যে মামলায় আমাকে আটক করা হয় তা দায়ের করা হয়েছিল ওই দিন রাত সাড়ে টায় এবং আমাকে আমার কর্মস্থল থেকে পুলিশ উঠিয়ে আনে রাত ৯টায়। মামলার অভিযোগটি কোন রকম তদন্ত না করেই আমাকে আটক করে হয়রানি করার মূলে রয়েছে এক জন পুলিশ কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধেও আদালতে মামলা করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ সদর দফতর ও পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির কার্যালয়ে অভিযোগ করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, ঘটনার দিন সকাল ৭টার দিকে রুটি তৈরি কেন্দ্র করে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে মাদকাসক্ত রোগীরা একে অপরের সঙ্গে গোলযোগে জড়ায়। একপর্যায়ে অন্যান্য মাদকাসক্তরা মাহফুজুর রহমানকে বেধড়ক মারধর করেন। সে গুরুতর অসুস্থ হলে ঐ সময়ে কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল কবীর তুহিন নিজেই রোগীকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ঐ দিন বেলা ১২টা ২৯ মিনিটে আমাকে জানান। সে সময় আমি আমার কর্মস্থল ডেন্টিস্ট পয়েন্টে ছিলাম। এরপর রোগীর বাবাকে খবর দিলে তিনি যশোর আসেন এবং তার ছেলে অত্যন্ত খারাপ ছিল মর্মে ছেলের মৃত্যুর বিষয়ে কোন অভিযোগ নেই বলে জানান। এরপর ইন্সপেক্টর রোকিবুজ্জামান, ক্ষমতার অপব্যবহার করে মৃতের বাবাকে দিয়া একটি হত্যা মামলায় মালিক পক্ষকে হুকুমের আসামী হিসেবে অন্তর্ভুক্তি করান। তিনি দাবিকৃত টাকা না পাওয়ার কারণে ২৩ই মে ২০২১ ইং তারিখে ৫ জন রোগীকে ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাতন করেন। তারা মৃত্যুর নির্দেশদাতা হিসেবে কেন্দ্রের পরিচালক মাসুম কবীরের নাম বলে। আমি যেহেতু চাকুরিজীবী সেহেতু রোগীদের দৈনন্দিন দেখভালের কোন দায়িত্ব পালন করতাম না। কেন্দ্রের ১৬ টি সচল সিসি ক্যামেরায় সকল কিছু দৃশ্যমান। রোগীর মৃত্যু সংক্রান্তে আমার উপস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও মামলাতে ইন্সপেক্টর রোকিবুজ্জামান তার ঘুষের দাবিকৃত টাকা না পাওয়ার কারণে মামলার আসামী ও স্বাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নির্দেশদাতা হিসেবে আমার নাম বলাবার চেষ্টা করেন। দুই জন সাক্ষীকে তার কথা মত মাজিস্ট্রেটের নিকট জবানবন্দি না দিলে তাদেরকে মামলার আসামি করার হুমকি প্রদান করেন। তার কথা শুনলে মামলায় ‘রাজস্বাক্ষী’ করবেন এবং বাইরে থাকতে পারবে মর্মে প্রভাবিত করার ও চেষ্টা করেন
ইন্সপেক্টর রোকিবুজ্জামান ও সাক্ষিদের কথপোকথনের মোবাইল ফোনে গোপনে ধারণ করা ভিডিও চিত্র তার
কাছে সংরক্ষিত আছে বলে তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে যশোর চাচড়া পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইন্সপেক্টর রকিবুজ্জামান রকিবের মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওখান থেকে চলে আসছি এক বছর আগে। এখন আমার বিরুদ্ধে নানা জনে নানা ধরনের কথা করবে। তবে এগুলো সঠিক না বলে তিনি জানান।