নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের দুঃখ নামে খ্যাত ভবদহ অঞ্চলের নদ-নদী খাল বিল সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সংস্কার করা হবে। প্রকল্পের অর্থ যাতে যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়।
এ অঞ্চলের ব্যায়িত অর্থ যেন এ অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে। সেই এ উদ্যোগ নেয়া হবে। বিগত সরকারের আমলে বিপুল পরিমাণে অর্থ ব্যয় করে ভবদহ অঞ্চলের মানুষের জন্য নানা প্রকল্প দেয়া হয়েছে। কিন্তু এই অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে আসেনি। প্রকল্পের অধিকাংশ অর্থই লুটপাট করা হয়েছে। তাই রাষ্ট্রের অর্থ যাদের জন্য ব্যয় করে বড় বড় প্রকল্প প্রদান করা হবে। যাতে তাদের কল্যাণ আসে, সে কাজই করা হবে।
মঙ্গলবার বেলা ১২টায় ভবদহ স্লুইসগেট ২১ ভেন্ট এলাকা পরিদর্শনের পরে ভবদহ কলেজ মাঠে অন্তবর্তী কালীন সরকারের পরিবেশ বন ও জলবালয়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এসব কথা বলেন।
এ সময়ে তার সঙ্গে ছিলেন অন্তবর্তী কালীন সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, যশোরের জেলা প্রশাসক মোঃ আজহারুল ইসলাম, ভবদহ সংস্কারক সংগ্রাম কমিটির নেতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনীর সদস্যরা।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, বিগত বছর গুলোর মত বর্ষায় যাতে জলাবদ্ধতা না হয়, সেজন্য সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভবদহ এলাকার নদী খনন কাজ শুরু হবে। জলাবদ্ধতা নিরসন যেসব সেচ পাম্প কাজ করছে। সেগুলোর বিদ্যুৎ বিল ইতোমধ্যে ৪৬ শতাংশ কমিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ। এ এলাকার জন্য কৃষি ব্যাংকের ঋণের সুদ মওকুফের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবদহ জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ২০০৫ সালে ভবদহ সমস্যার সমাধান করা সহজ ছিল। কিন্তু সে সময় তৎকালীন সরকার সদিচ্ছা দেখায়নি। বর্তমান সরকার এ সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধানের জন্য ইতোমধ্যে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি শুরু করেছে। পক্ষ-বিপক্ষ সবার কাছ থেকে এ ব্যাপারে মতামত নেওয়া হবে। এরপর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে সকাল ১০টার দিকে যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়া সরকারি কলেজ মাঠে হেলিকপ্টার যোগে আসেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ তিন উপদেষ্টা। পরে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা এলাকা পরিদর্শন করেন তারা।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের তথ্য মতে, যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশবিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। পলি পড়ে এ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদী নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে নদী দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে না পেরে দলবদ্ধতা তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতার ফলে এই অঞ্চলের ফসল ফলে না। এমনকি মাছের ঘেরও বর্ষার পানিতে প্লাবিত হয়ে যায়। ক্ষতির মুখে পড়ে ভবদহ অঞ্চলের প্রায় তিন লক্ষ মানুষ। জলাবদ্ধতার কারণে এসব মানুষের অধিকাংশের আশ্রয় নিতে হয় মহাসড়কের ধারে বা স্কুল কিংবা আশ্রয়কেন্দ্রে। বিগত চার দশকে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৬৫০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারগুলোর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থ লুটপাট করেছে।
সেখান থেকে যশোর ফিরে যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যশোরের সরকারি অফিসের অফিস প্রধান ও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, কিছু কিছু অফিসার কোন একটি পক্ষকে তেল মারা শুরু করেছে। তেল মারা ভালো কিন্তু বেশি মারা ভালো না। বেশি তেল দিলে বিগত সরকারের মত হবে। কোন গোষ্ঠী বারবার সরকারি অফিসে তেল মেরে সুবিধা নিতে চাইলে তাদেরকে চা বিস্কুট খেতে দিবেন। এরপর পুলিশ ডেকে ধরিয়ে দেয়ারও পরামর্শ দেন তিনি। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে মতবিনিময় সভা শেষ করে পুলিশ লাইন পরিদর্শন করেন। বিকাল সাড়ে ৪ টায় তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে যশোর ত্যাগ করেন।