নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের চৌগাছায় ছোট ভাই ইসরাফিলের লাঠির আঘাতে প্রাণ গেল বড় ভাই রেজাউল ইসলাম ওরফে সাইমন (২৩) নামে এক যুবকের।
নিহত রেজাউল উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বড়খানপুর ঢাকাপাড়া গ্রামের আয়তাল হকের ছেলে। নিহতের দেড় বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার চৌধুরী।
সোমবার (৫ই ফেব্রুয়ারী) দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকাল ৭টায় নিজ বাড়িতে জ্বালানি কাঠ উঠানো কে কেন্দ্র করে তার ছোট ভাই ইসরাফিল ওরফে মনির সঙ্গে রেজাউল ইসলাম ওরফে সাইমনের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যয়ে ছোট ভাই ইসরাফিল লাঠি দিয়ে রেজাউল ইসলাম ওরফে সাইমনকে আঘাত করেন। এ সময়ে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্ত্রী স্থানীয়দের নিয়ে তাকে ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে মঙ্গলবার (৫ ফ্রেব্রুয়ারি) রাত ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী সুমি খাতুন বলেন, সোমবার সকাল ৭টার দিকে গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময়ে খোলা জায়গা থেকে রান্নার জন্য জ্বালানি কাঠ বৃষ্টির পানিতে ভেজা থেকে রক্ষায় ঘরে তোলা নিয়ে আমার সাথে শাশুড়ি সালেহা বেগমের মধ্যে বাক-বিতন্ডা (ঝগড়া) হয়। এ বাগবিতণ্ডকে কেন্দ্র করে এক পর্যায়ে আমার স্বামী নিহত রেজাউল ওরফে সাইমন (২৩) এবং তার আপন ছোট ভাই ইসরাফিল ওরফে মনি (১৭) এর মাঝে হাতাহাতি শুরু হয়।
একপর্যায়ে ছোট ভাই ইসরাফিল ওরফে মনি পাশে থাকা লাঠি দিয়ে আমার স্বামীকে বেধড়ক মারধর করে। মারধরের ঘটনায় সে অচেতন হয়ে পড়ে। সাথে সাথে স্থানীয় ডাক্তার আব্দুল সালামের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রাত তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়। তিনি এ হত্যাকাণ্ডে শশুর শাশুড়ি ও দেওরা মনির বিচার চেয়েছেন।
নিহতের মা সালেহা বেগম বলেন, সামান্য তুচ্ছ ঘটনা কেন্দ্র করে দুই ভাই এ হাতাহাতি শুরু করে। এতে আমিও তার বাবা ঠ্যাকাতে গেলে আমাদের উপর ও রেজাউল চড়াও হয়। এ সময়ে আমার ছোট ছেলে ইসরাফিল তাকে একটা লাঠি দিয়ে আঘাত করলে, সে মাটিতে পড়ে যায়। সাথে সাথে আমরা স্থানীয় ডাক্তার আব্দুল সালাম কে দিয়ে চিকিৎসা দেয়। কিন্তু তার অবস্থা উন্নতি না হওয়ায় তাকে কোটচাঁদপুর হাসপাতালে ভর্তি করি। কিন্তু এমন ঘটনা ঘটবে তা আমরা স্বপ্নেও ভাবেনি বলে তিনি আত্মনাদ করতে থাকে।
চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, ঘটনা শোনার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে নিহতের বাবা আয়তাল হক এবং মা’ সালেহা বেগমসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা? সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছোট ভাই ইসরাফিল ওরফে মনি বড় ভাই রেজাউল ওরফে সাইমনকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করেনি বলেও তিনি জানান।