যশোরের স্বতঃস্ফূর্তভাবে হরতাল পালিত

নিউজটি শেয়ার লাইক দিন

তরিকুল ইসলাম মিঠু,যশোর প্রতিবেদক’ যশোরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালিত হয়েছে বিএনপি-জামাতের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল।

রোববার সকাল-সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল শংকরপুরে গিয়ে জানা যায়, শহরের এ কেন্দ্র বাস টার্মিনাল থেকে উপজেলা সদরের কোথাও কোন বাস ছেড়ে যায়নি। এমনকি উপজেলা সদর থেকেও কোন ধরনেরও বাস টার্মিনালে আসেনি। তবে ইজি বাইক ও ইজি রিকশা স্বতঃস্ফূর্তভাবে শহরের ভিতরে চলাচল করতে দেখা গেছে।

মনিহার সিনেমা হলের পাশে দূরপাল্লার কাউন্টার গুলোতে গিয়েও একই ধরনের অবস্থা দেখা যায়,

রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যশোরের কোন বাস কাউন্টার থেকে কোন ধরনের দূরপাল্লার পরিবহন যাত্রী নিয়ে যশোর ছেড়ে যায়নি। এমনকি ঢাকা থেকেও কোন বাস যাত্রী নিয়ে যশোরে আসেনি। এমনটি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বাস কাউন্টারের ম্যানেজাররা।

, হরতালে পরিবহন শ্রমিকদের সব থেকে জীবন শঙ্কার মধ্যে থাকে। তাই হরতালে বাস চালানোর কথা বলা হলেও শ্রমিকরা জানমালের নিরাপত্তার কারণে কেউ রাস্তায় উঠতে চায় না। হরতালের ফলে একদিকে যেমন শ্রমিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে বাস মালিকরা কোটি কোটি টাকার লোকশান হচ্ছে। তাই রাজনৈতিক উভয় দলের নেতারা বিষয়টি সুরাহ করে নিলে মানুষের দুর্দশা লাঘবে হবে।

সাক্ষাৎকারের ভিডিও দেখতে, এখানে ক্লিক করুন

ঈগল পরিবহন কাউন্টারের ক্যাশিয়ার সুব্রত সাহা বলেন, হরতালের কারণে মানুষ রাস্তায় বের হচ্ছে না। পরিবহনেও যাত্রী নেই। তবে যাত্রী পেলে তারা পরিবহন ছাড়বেন বলে জানান।

সোহাগ কাউন্টার টিকিট সেলসম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, হরতালের কারণে তাদের পরিবহন সব বন্ধ রাখা হয়েছে। বিলাসবহুল গাড়ি ও যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে কর্তৃপক্ষ এ ব্যবস্থা নিয়েছে। তাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের  বাস চালাচল বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

যশোর মিনিবাস ও বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অসীম কুন্ড প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, হরতালের কারণে এখন আর কোন বাস মালিকরা বাস চালাতে চায় না। শ্রমিকরাও নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে তারাও কাজ করতে চায় না। তাছাড়া রাস্তায় যাত্রী না থাকার কারণেও বাস চালানো সম্ভব হয় না। সব মিলিয়ে তাই বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। সন্ধ্যায় ছয়টার পর যথারীতিতে বাস চলাচল শুরু করেছে।

 

উল্লেখ্য রাজধানী ঢাকার শাপলা চত্বরে জামায়াতের ও নয়াপল্টনে বিএনপি’র ঘোষিত ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ বানচাল করার হীন উদ্দেশ্যে সরকার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৬ শতাধিক নেতাকর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করেছে। এই গ্রেপ্তার সম্পূর্ণ বেআইনি, অগণতান্ত্রিক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত। সরকারের এই অন্যায় গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় বিএনপিও জামাতের শীর্ষ নেতারা। সেই সঙ্গে অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ, কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে নেতারা রোববার সকাল সন্ধ্যা হরতাল ঘোষণা করেন।

তবে ঘোষিত হরতাল কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকবে হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, সংবাদপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট গাড়ি এবং ঔষধের দোকান।

Comments (0)

Your email address will not be published. Required fields are marked *