নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শা উপজেলার কন্যাদহ গ্রামে মুকুল নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা।
বুধবার (২২শে মে) রাতে তাকে পিটিয়ে গুরুতর যখন করা হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ পরে যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরের দিন বৃহস্পতিবার তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পিজি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে মধ্যরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সে ওই গ্রামের মৃত্যু আব্দুল আজিজের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিশ্চিত করেছেন শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান।
আজ থেকে ২৫ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৯৯ সালে তার বাবা আব্দুল আজিজ কেও দিনে দুপুরে সবার সামনে একইভাবে পিটিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়ের বরাত দিয়ে শার্শা থানার পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার রাতে স্থানীয় হাসান মেম্বারসহ বাহিনী প্রধান আয়নালের ছোট ভাই বাবু, তার আরেক ভাই ইমাজ উদ্দিনসহ ১০-১৫ জন চাঁদার দাবিতে মুকুলের বাড়িতে যায়। মুকুলের কাছে তারা দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিতে চাইলে তাকে বেধড়ক মারপিট করা হয়। এ সময়ে রক্ষা করতে গেলে মুকুলের ছোট ভাই বকুলকেও পেটানো হয়। বর্তমানে বকুল যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরো জানান, মুকুলের অবস্থা খারাপ দেখে অভিযুক্তরা ফেলে রেখে পালিয়ে চলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা দুই ভাইকে যশোর সদর হাসপাতালে আনেন। কিন্তু মুকুলের অবস্থা খারাপ হওয়ায় সেখান থেকে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুকুলের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বকুলকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
যশোর জেলা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিবি) ওসি রূপন কুমার সরকার বলেন, মুকুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শার্শা থানায় একটি মামলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হাসান মেম্বার, শাওন ও তাজুকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকান্ডে জড়িত বাকিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে যশোর নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘাতক হাসানের ভাগ্নির সঙ্গে মুকুলের প্রেম ঘটিত বিষয়ে একটা মনোমালিন্য ছিল। সেই ঘটনা জের ধরে তারা তাকে পিঠে হত্যা করে। এ ঘটনায় হাসানসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।