তরিকুল ইসলাম মিঠু, যশোর প্রতিবেদক: যশোরের আলোচিত -৪ আসনের (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের বাড়িতে হামলার ঘটনায় জেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে উভয়পক্ষ সমঝোতায় সম্মত হলেও পরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
বৈঠক শেষে বেরিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক ও অভিভাবকরা দাবি করেন, তারা ন্যায়বিচার পাননি। তারা সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের মেয়ের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল ও পুলিশ সুপারের গাড়ির সামনে অবস্থান নিলে তারা প্রায় এক ঘণ্টা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে আটকে পড়েন। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
গত মঙ্গলবার সকালে যশোর শহরের নীলগঞ্জ সুপারি বাগান এলাকায় যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুলের মেয়ে মেহেজাবিন জান্নাত অনন্যার বিরুদ্ধে বেপরোয়া আচরণ ও মাদরাসা শিশুদের মারপিটের অভিযোগ এনে এমপির বাড়িতে হামলা চালায় একদল নারী-পুরুষ। তারা শিশুদের অভিভাবক ও শিক্ষক। এ নিয়ে দিনভর উত্তেজনা দেখা দেয়। বিকেলে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। উভয় পক্ষকে নিয়ে বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সমঝোতা বৈঠক করতে সম্মত হন।
বুধবার বিকালে উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর জিলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, মাদরাসার শিক্ষক নাসির উদ্দীন প্রমুখ।
সভায় উভয়পক্ষ তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। মঙ্গলবারের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করেন এমপি অধ্যাপক গোলাম রসুল। সভায় দুই পক্ষই সমঝোতার মাধ্যমে মীমাংসা করেছে বলে দাবি করেন জেলা প্রশাসক আশেক হাসান।
সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এমপি সাহেবের পরিবারের আগে থেকেই ভুল বোঝাবুঝি ছিল। এমপি সাহেব গতকালে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। বাইরে গিয়ে কে-বা কারা বলছে মেনে নেননি, সেটি বিবেচ্য নয়। অপরপক্ষ ক্ষমা করে দিয়েছেন।’
সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে যশোর-৪ আসনের এমপি অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, ‘আমি জনগণ নিয়েই পলিটিক্স করি। কওমি মাদরাসার জন্য সংসদে কথা বলেছি। যাতে তারা সুযোগ-সুবিধা পায়। জেলা প্রশাসনের মীমাংসা সভার সিদ্ধান্ত আমি মেনে নিয়েছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘গতকালের হামলার ঘটনায় আমার বাসার অনেক ক্ষতি হয়েছে। আমার মেয়ে আহত হয়েছে। আমি একটি অভিযোগ দিয়েছি। তবে আমি ভুলে গিয়েছি। তাদের ক্ষমা করে দিয়েছি।’
এদিকে, সভা শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের বাঁধার মুখে পড়েন এমপি গোলাম রসুল ও পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। এ সময় শিশু শিক্ষার্থীর মা, বাবা শিক্ষকরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। তারা দাবি করেন, জেলা প্রশাসনের সভায় ন্যায় বিচার পাননি। এমপির মেয়ের শাস্তি দাবি করে তারা গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে যান। এমন পরিস্থিতি প্রায় এক ঘণ্টা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে আটকে যায় এমপি ও পুলিশ সুপারের গাড়ি বহর। উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের তৎপরতায় এক পর্যায় বিক্ষোভকারী নারী পুরুষদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার সকালে যশোর শহরের নীলগঞ্জ সুপারিবাগান এলাকায় আল মাদ্রাসাতুল শারইয়্যাহর এক শিশু ও অভিভাবককে মারধরের অভিযোগ ওঠে এমপি গোলাম রসুলের মেয়ের বিরুদ্ধে। পরে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও জনতা মাদ্রাসার পাশে অবস্থিত এমপির বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা এমপির বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এতে কয়েক ঘণ্টা এমপি ও তাঁর স্বজনেরা অবরুদ্ধ থাকেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিকালে যশোর-নড়াইল মহাসড়কে অবস্থান নেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ এসে ঘটনার তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিলে সড়ক থেকে সরে যায় ক্ষুব্ধ জনতা।