খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খঃ মহিউদ্দিনকে বিদায় সংবর্ধনা

নিউজটি শেয়ার লাইক দিন

স্টাফ রিপোর্টার: খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খঃ মহিদ উদ্দিন, বিপিএম(বার)ও তার সহধর্মিনী খুলনা রেঞ্জ পুনাক সভানেত্রী(পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি), ডাঃ ফাতিমা জেসমিনকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে চারটায় (১৫ই নভেম্বর ২০২২) খুলনা রেঞ্জ পুলিশ ও পুনাক খুলনা রেঞ্জের যৌথ আয়োজনে যশোর পুলিশ লাইন্সে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে এ বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

যশোর পুলিশ লাইন্স ড্রিল সেটে খুলনা রেঞ্জ পুলিশ ও পুনাক খুলনা রেঞ্জের যৌথ আয়োজনে রেঞ্জ ডিআইজি ড. খঃ মহিদ উদ্দিন, বিপিএম(বার) ও তার সহধর্মিনী খুলনা রেঞ্জ পুনাক সভানেত্রী(পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি), ডাঃ ফাতিমা জেসমিনকে এ বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের প্রথমেই বিদায়ী অতিথিদের জেলা পুলিশের পক্ষ হতে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরবর্তীতে মূল অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভৈরব শিল্প গোষ্ঠীর একটি মনোমুগ্ধকর দলীয় নিত্য পরিবেশনার মাধ্যমে বিদায়ী অতিথিদের অনুষ্ঠানে স্বাগতম জানানো হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময়ে বিদায়ী অতিথি সম্পর্কে নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন অত্র রেঞ্জাধীন উর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণ।

পরবর্তীতে অনুষ্ঠানের মধ্যমনি খুলনা রেঞ্জ পুলিশের অভিভাবক বিদায়ী অতিথি রেঞ্জ ডিআইজি ড. খঃ মহিদ উদ্দিন, বিপিএম(বার) সংবর্ধনা অনুষ্ঠান  সুন্দর জাঁকজমকপূর্ণ  করার জন্য আয়োজকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আমি প্রচন্ড ভালোবাসি আমার প্রিয় মাতৃভূমিকে এবং আমার ইউনির্ফমকে। সেই জন্যই আমার অন্য পেশায় একাধিক সুযোগ থাকা সত্বেও বিসিএসে প্রথম চয়েজ ছিল পুলিশ। আমি এই চাকরিটা কে ইবাদত মনে করি। আমি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সুতরাং এখানে নিজের ভূখন্ডের প্রতি আমার প্রতরণা করার কোন সুযোগ নেই।

তিনি আরো বলেন, আমি কোন কম্প্রোমাইজ করে অত্র রেঞ্জের কার্যক্রম পরিচালনা করিনি। আমি সব সময় চেষ্টা করেছি সৎ থেকে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে। তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের সকলের একটা কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে। সেটা হলো আমাদের অর্জনটা যেন সৎ হয়।

তিনি আরো বলেন, আমি পেশাগত কারণে আমার অধীনে অত্র রেঞ্জের প্রায় ১৪হাজার প্লাস সহকর্মীদের সাথে একই আচরণ করতে পারিনি। সেটা হয়ত অবশ্যই কাজের স্বার্থে। আমি পেশাগত কারণেই অনেক সময়ে সহকর্মীদের সাথে শাসনের সুরে কথা বলেছি। তবে আমি জোর দিয়ে বলতে পারি সহকর্মীদের ওয়েলফেয়ারে আমি কখনো কোন প্রকার কার্পণ্য করিনি।

পরিশেষে মাননীয় রেঞ্জ ডিআইজি তারও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য উপস্থিত সকলের নিকট দোয়া প্রার্থনা করেন।

এসময়ে রেঞ্জ পুলিশ খুলনা ও রেঞ্জ পুনাক খুলনার পক্ষ হতে বিদায়ী অতিথিদের শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, বিদায়ী অতিথি রেঞ্জ ডিআইজির সহধর্মিনী ও খুলনা রেঞ্জ পুনাক সভানেত্রী ডাঃ ফাতিমা জেসমিন এবং যশোর জেলার পুলিশ সুপারের সহধর্মীনি বিপ্লবী রানী, সভানেত্রী পুনাক, যশোর ও অতিরিক্ত পরিচালক জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

পরবর্তীতে অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র অনুষ্ঠানের সভাপতি যশোর জেলার পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার, বিপিএম(বার), পিপিএম।

পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের মধ্যমনি খুলনা রেঞ্জ পুলিশ তথা আমাদের সকলের অভিভাবক বিদায়ী অতিথি রেঞ্জ ডিআইজি হলেন সততা ও নিষ্ঠার এক প্রতীক।

স্যার পেশাদারিত্বের সাথে, আন্তরিকতার সাথে, দক্ষতা ও অত্যন্ত সাহসীকাতার সাথে তার তার উপর অর্পিত সকল দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি হলেন বাংলাদেশ পুলিশের উজ্জ্বল এক নক্ষত্র।

তিনি বিদায়ী রেঞ্জ ডিআইজি ও তার সহধর্মিনী খুলনা রেঞ্জ পুনাক সভানেত্রীর সুস্থ্যতা ও উত্তরোত্তর সাফল্য ও মঙ্গল কামনা করেন এবং অত্র অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন যশোর (অতিরিক্ত পুলিশ সুপার “ক” সার্কেল) মোহাম্মদ বেলাল হোসাইন।

আলোচনা সভা শেষে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে যশোর জেলার জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীবৃন্দ তাদের মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপহার দেন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত ডিআইজি, খুলনা আরআরএফ কমান্ডেন্ট, অত্র রেঞ্জের সকল জেলার পুলিশ সুপারগণ, পুলিশ সুপার পিপিআই, যশোর, খুলনা রেঞ্জ পুনাকের সকল নেতৃবৃন্দ সহ জেলা পুলিশ এবং অন্যান্য ইউনিটের বিভিন্ন পদমর্যাদার অফিসার ও ফোর্সবৃন্দ।

Comments (0)

Your email address will not be published. Required fields are marked *