ঢাকা অফিস: গত রোববার হরতালের পর একদিন বিরতি দিয়ে তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। একই সুরে কথা বলেছে জামায়াতে ইসলামীও। তারাও আগামী তিনদিন অবরোধের ডাক দিয়েছে।
এ অবরোধ কর্মসূচিতে নাশকতার আশঙ্কা করছে পুলিশ। এজন্য সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে। নাশকতার চেষ্টা হলে মাঠে পুলিশ ও র্যাব কঠোর অবস্থানে যাবে বলে বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অনুমতি নিয়েও গত শনিবার সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা।
২৮ অক্টোবরের ওই সহিংসতায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং ৪১ পুলিশ সদস্য আহত হন। এ অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা ৩ দিনের অবরোধের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, নাশকতা, আগুন, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্য হত্যাসহ নানা অভিযোগে ৩৬ মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ১৫৪৪ জন এজাহারনামীয়সহ অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় গোয়েন্দা তথ্য, অপরাধের ছবি এবং ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিএমপি জানিয়েছে, গত ২১ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৯ দিনে আইনশৃঙ্খলা অবনতি ও সহিংসতার ঘটনায় ১৭২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এর মধ্যে সমাবেশের দিন ২৮ অক্টোবর ৬৯৬ জনকে এবং ২৯ অক্টোবর ২৫৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এক ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও নাশকতার তথ্য থাকলে ৯৯৯-এ কল করে তথ্য জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
অবরোধে নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ড. খ মহিদ উদ্দিন বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় জানতে পেরেছি আগামী তিনদিনের জন্য রেল, সড়ক ও নৌপথে অবরোধ কর্মসূচি আসছে। সেটি সারা দেশে হলেও ঢাকা নগরবাসীর সম্পদ ও জান-মালের নিরাপত্তায় ঢাকা মহানগর পুলিশ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আশা করি আমরা যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেব, সেটির সঙ্গে নগরবাসী ও সব শ্রেণির মানুষ আমাদের সহযোগিতা করবে।
নাশকতার শঙ্কা সম্পর্কে তিনি বলেন, অবরোধকে কেন্দ্র করে কোনো নাশকতামূলক কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে নাশকতা হতে পারে, সমসাময়িক ঘটনা তাই ইঙ্গিত দিচ্ছে। মূলত শঙ্কা বিবেচনায় নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। যদি কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তবে ঢাকা মহানগর পুলিশ আইনি দায়িত্ব পালন করবে এবং নগরবাসীকে নিরাপদ রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা রাখবে।
গাজীপুরে পুলিশের গুলিতে গার্মেন্টস শ্রমিক নিহত
খ মহিদ উদ্দিন বলেন, যারা রাজনৈতিক কর্মসূচি দেয়, আমরা আশা করি তারা ধ্বংসাত্মক কাজ করবে না। কারণ ধংসাত্মক কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হতে পারে না। এটা আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
বিএনপির শীর্ষ স্থানীয় রাজনীতিবিদদের বাসায় অভিযান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যক্তি কোনো বড় বিষয় নয়। বড় বিষয় হলো অপরাধ এবং অপরাধী। এর বাইরে কিছু বলার নেই। পুলিশের কাজ হলো তদন্ত করা। তদন্তে যদি মনে হয় আইনের আওতায় কারো সংশ্লিষ্টতা আছে তবে ব্যবস্থা নেওয়ায় হবে পুলিশের অবস্থান।
অতীতে অবরোধের নামে যে নাশকতা-সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল এবং সাম্প্রতিক ঘটনা বিশ্লেষণ করে শুধু ঢাকা নয় সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদ বলেন, দুর্বল চিত্ত প্রদর্শনের কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কঠোর অবস্থানই হচ্ছে— কোনো অবস্থাতেই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে দেওয়া যাবে না। ভাঙচুর, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও সহিংসতা-নাশকতা কোনো অবস্থায় হতে দেওয়া যাবে না।