নিজস্ব প্রতিবেদক:জন্মনিবন্ধন জালজালিয়াতের দায়ে যশোরে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তাসহ দু’ জন আটক হয়েছে।
রোববার(৩০শে জুন) দুপুরে সদর উপজেলার লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদে অভিযান চালিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোক্তা শুভাশিস বিশ্বাস শুভ ও তার সহযোগী খাজুরা হাইস্কুলের অফিস সহায়ক রাহাত রহমান নিশাতকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন বিশ্বাসের নির্দেশে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করেন।
আটক শুভাশিষ ইউনিয়নের গহেরপুর গ্রামের শ্যামল বিশ্বাসের ছেলে এবং নিশাত জসিম উদ্দিনের ছেলে। এই ঘটনায় থানায় জালিয়াতির মামলা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এ সময়ে পুলিশ উদ্যোক্তার কম্পিউটার থেকে বিভিন্ন জেলার দুই’শ জাল জন্মনিবন্ধন উদ্ধার করেন।
স্থানীয়রা জানান, রোববার দুপুরে লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদে পরিদর্শনে যান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন বিশ্বাস। এ সময় তিনি উদ্যোক্তার কাছে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চান। ইউএনও উদ্যোক্তার কম্পিউটার চেক করে দেখতে পায়, সেখানে নোয়াখালী, কুমিল্লা, চাঁদপুর ও সাতকানিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার দুই’শ জাল জন্ম নিবন্ধন বিক্রির কাগজপত্র রয়েছে। কম্পিউটারে বিভিন্ন জেলার জন্ম নিবন্ধনের কাগজপত্রের সঠিক উত্তর দিতে না পারায় লেবুতলা ইউনিয়নের উদ্যোক্তা শুভাশিস বিশ্বাস শুভ ও তার সহযোগী রাহাত রহমান নিশাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন বিশ্বাস বলেন, ‘বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়মিত পরিদর্শনের অংশ হিসাবে রোববার লেবুতলা ইউনিয়নে যাওয়া হয়। ইউনিয়নের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে উদ্যোক্তার কক্ষেও যাওয়া হয়। সেখানে তার জন্মনিবন্ধন কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। এরপর তার কম্পিউটারে বিভিন্ন জেলার দুই’শ জাল জন্মনিবন্ধন দেখা যায়। আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ ছিলো না। হঠাৎ করেই তার কম্পিউটারে যাচাই করা হয়। এতেই এই জালিয়াতি ধরা পড়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছেস্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট জেলা উপজেলার কিছু লোক জড়িত। অর্থের বিনিময়ে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এই জালিয়াতি কাজ করে আসছে। জড়িত উদ্যোক্তা ও তার সহযোগী মোট দুইজনকে তাৎক্ষণিক পুলিশে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ অধিকাতর তদন্ত করবে। একই সাথে ইউনিয়ন পরিষদ সচিব আলী নেওয়াজ বাদী হয়ে আটকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। আর এই ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সচিবকে শোকজ করা হয়েছে।
যশোর কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে জাল জন্মনিবন্ধন করার অভিযোগে দু’জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় জালিয়াতির মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য একজন পুলিশ পরিদর্শককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।