স্বর্ণ আত্মসাৎকারী অপহৃত সুমন হত্যাকাণ্ডে আরো তিন ঘাতক গ্রেফতার

নিউজটি শেয়ার লাইক দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের শার্শায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ৩৪ টি স্বর্ণেরবার আত্মসাৎকারী অপহৃত সুমন হত্যাকাণ্ডে আরো তিন ঘাতক গ্রেফতার হয়েছে

সোমবার (২০ই নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার আশুলিয়া কাঠগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘাতক ও প্রধান আসামী কামাল(৪০)সহ অন্যতম সহযোগী এজাজ(২৪), ইসরাফিল(২৯)দেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যরা। তাদের স্বীকারোক্তিতে পরে বেনাপোল স্থল বন্দর বাস টার্মিনালের সামনে থেকে তারা অপহৃত সুমনের মৃতদেহ গুমের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার এবং ঘটনাস্থলে ঘরের ছাদ থেকে হত্যাকাজে ব্যবহৃত লোহার পাইপ, প্লাস উদ্ধার করেন।

গ্রেপ্তারকৃত  কামাল হোসেন বেনাপোল বড়আচড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে, সিরাজুল এজাজ বেনাপোল সাদীপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে ও ইসরাফিল বেনাপোল সাদিপুর গ্রামের রফিজুল ইসলামের ছেলে।

এর আগে ১১ই নভেম্বর বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ৩ কোটি টাকা মূল্যের ৩৪টি স্বর্ণেরবার আত্মসাৎ এর অভিযোগে অপহরণ করা হয় ওমর ফারুক সুমন(২৬)কে। পরে সুমনের মা রোববার অর্থাৎ ১২ই নভেম্বর কয়েক দফায় শার্শা থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলেও পুলিশ অভিযোগ আমলে নেয়নি। পরে সোমবার অর্থাৎ ১৩ই নভেম্বর দুপুরে সুমনের মা ফিরোজা বেগম অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় বেনাপোল পোর্ট থানায় হাজির হয়ে বেনাপোল ৯ নম্বর ওয়ার্ডের (বড়আটড়া) কাউন্সিলর মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে কামাল হোসেন (৪০), সাদীপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে এজাজ রহমান (২৮), শার্শার শালকোনা গ্রামের ঈমান আলীর ছেলে তরিকুল ইসলাম(২৫) ও একই এলাকার বাটুলের ছেলে পলাশ হোসেন(২৬) সহ ৮ থেকে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১৬ই নভেম্বর সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে মাগুরা সদর থানার পুলিশ ও যশোর জেলার গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি দল যৌথভাবে মাগুরা থেকে ওমর ফারুক সুমনের মৃতদেহটি উদ্ধার করেন। ঐদিনই যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা রাত সাড়ে নটার দিকে ঢাকার শাখারী বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার আলিকামুড়া গ্রামের সুনীল চন্দ্র দাসের ছেলে ডালিম কুমার দাস(৩৩), সে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা ডিএমপি শাখারী বাজার এলাকার ৬ নম্বর কৈলাস ঘোষ লেন এ/পি হক ভিলার চতুর্থ তলার বাসিন্দা, কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর গ্রামের ঠাকুরদাস নিয়োগীর ছেলে অঞ্জন নিয়োগি(৪৯), সে ও দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা ডিএমপি ৪৩ নম্বর শাখারী বাজার এলাকার এপি-মিন্টু ধর বিল্ডিং এর বাসিন্দা ও পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া গ্রামের দৌলত মুন্সির ছেলে রিয়াজ(৩৮), সে ঢাকা বিএনপি মতিঝিল ফকিরাপুল ,৭তলার ৬বি, এপি আবুল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটি কে আটক করতে সক্ষম হয়। এ নিয়ে ওমর ফারুক সুমন হত্যাকাণ্ডের ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করলো জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অফিসার ইনচার্জ রুপণ কুমার সরকার বলেন, মামলাটি চাঞ্চল্যকর হাওয়ায় মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যদের উপর। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই শামীম হোসেন, শফি আহম্মেদ রিয়েলদের সমন্বয়ে একটি টিম প্রযুক্তি ব্যবহার করে এর আগেই তিনজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বেলা সাড়ে বারোটার দিকে তারা আবার ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামী কামাল হোসেন এজাজ ও ইসরাফিলকে আটক করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা পেলে তাদেরকেও আইনের আশ্রয় নিয়ে আসা হবে বলে তিনি জানান।

Comments (0)

Your email address will not be published. Required fields are marked *