আব্দুল্লাহ আল মামুন, বেনাপোল প্রতিনিধি: বিএনপি-জামাতের অবরোধে যশোরে দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ থাকলেও সীমিত আকারে চলছে মিনিবাস। মঙ্গলবার যশোর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও বেনাপোল বাস টার্মিনাল ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
সকাল ৮-৯টার মধ্যে যশোর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রী সংকটের কারণে একেবারে স্বল্পসংখ্যক মিনিবাস যাত্রী নিয়ে বন্দরনগরী বেনাপোলসহ উপজেলা সদরে ছেড়ে গেছে। তেমনি ভাবে উপজেলা সদর থেকেও যাত্রী না পাওয়ায় দুই একটা মিনি বাস যশোর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এসেছে।
যশোর মিনিবাস ও বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অসীম কুণ্ড বলেন, সকাল থেকেই আমরা বাস ছাড়ার জন্য সব পরিবহন শ্রমিকদের নির্দেশনা দিয়েছি। কিন্তু যাত্রী সংকটের কারণে স্বল্প আকারে বাস চলাচল করছে।

বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, অবরোধে বন্দরে তেমন কোন প্রভাব পড়েনি। আগে থেকেই সর্বস্তরের মানুষকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে বন্দরের কার্যকলাপে স্বাভাবিক থাকবে। কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনেরর অফিসার ইনচার্জ শফি আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার ভোর থেকে বেলা সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত ভারতে ৩ হাজারের অধিক পাসপোর্ট যাত্রী প্রবেশ করেছে। অবরোধে ভারতে যাত্রী যাতায়াতে কোন ধরনের প্রভাব পড়েন।
বেনাপোল বন্দর উপ-পরিচালক রেজাউল করিম (প্রশাসনিক) কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বন্দরের আমদানি রপ্তানী স্বাভাবিক রয়েছে। সকাল থেকে লোড আনলোডের কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।
কাস্টম হাউজের ডেপুটি কমিশনার অথেলো-চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অবরোধে বেনাপোল কাস্টম হাউজে কোন ধরনের প্রভাব পড়েনি। স্বাভাবিক নিয়মে কার্যক্রম চলছে।
উল্লেখ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম সোমবার (৩০ অক্টোবর) দলটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ৩১ অক্টোবর এবং ১ ও ২ নভেম্বর সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধের কর্মসূচির
বিবৃতিতে তিনি বলেছিলেন, গত ২৮ অক্টোবর রাজধানী ঢাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপিসহ সরকারবিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মহাসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার পরিবর্তে নেতাকর্মীদের পথে পথে বাধা প্রদান করে। সমাবেশে আগত নেতাকর্মীদের গাড়ি থেকে নামিয়ে তল্লাশি করে এবং বাস, লঞ্চ, ট্রেন থেকে নামার পর গণহারে গ্রেপ্তার করে। বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ার গ্যাস, গুলি ও বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। পুলিশের টিয়ার গ্যাস এবং গুলির আঘাতে সাংবাদিক ও বিএনপির নেতাকর্মীসহ চারজন নিহত এবং কয়েক হাজার নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মহাসমাবেশ ও হরতালকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিনে সারাদেশে জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলের প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সরকারের পদত্যাগ, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ গ্রেপ্তার সব রাজনৈতিক নেতা ও আলেম-ওলামার মুক্তি, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিরোধ, ২৮ অক্টোবর বিরোধী দলের মহাসমাবেশে হামলা, সাংবাদিক ও নেতাকর্মীদের হত্যা, বিভিন্ন স্থানে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ৩১ অক্টোবর এবং ১ ও ২ নভেম্বর সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা করেন।