ভাষা শহীদদের স্মরণে যশোরে ৫২শ’ মোমবাতি প্রজ্বলন

নিউজটি শেয়ার লাইক দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভাষা শহীদদের স্মরণে রাখতে ৫২শ মোমবাতি প্রজ্বলন করেছে যশোরবাসী।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চাঁদেরহাটের উদ্যোগে যশোর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ভাষা শহীদদের স্মরণ ও জাতীয় জীবনের সব অন্ধকার দূর করে নতুনে উদ্ভাসিত হওয়ার প্রত্যয়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা মোমবাতি প্রজ্বলন করেন। এরপর রাতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আল্পনার রঙে আঁকা হয়।

এর আগে, সন্ধ্যায় চাঁদের হাটের সভাপতি ফারাজী আহমেদ সাঈদ বুলবুলের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবরাউল হাছান মজুমদার, পৌর সভার মেয়র মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণি খান পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নূর ই আলম সিদ্দিকী, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মো. আছাদুজ্জামান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট যশোরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দীপংকর দাস রতন, যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

আলোচনা সভায় বক্তরা বলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বররা কিন্তু বুকের রক্ত দিয়ে নিহত হওয়ার জন্য জীবন দেয়নি। তারা রক্ত দিয়েছিলেন মনের ডাকের জন্য। মায়ের ভাষার সম্মান রক্ষার জন্য। তারা কিন্তু জানতেন না; তারা মারা যাবেন। তারা শহীদ হয়ে যাবেন। তাদের মনের ডাক, বিশ্ব বুঝতে পেরেছে অনেক বছর পর। এই দিনটা আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বকৃতি দিয়ে। বাঙালি এমনই একটি জাতি। অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে। নাড়ীর যে সংযোগ সেটা খুঁজে বেড়ায়। নাড়ির টানের সব সময় আগ্রাসী ভূমিকা পালন করে। সেই বাঙালিদের প্রতিনিধিত্ব করি আমরা। আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা বিশেষ সেই শহীদদের স্মরণ করি, শ্রদ্ধা করি।

বিকেলে শহীদ মিনার চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী, সুরধুনী, পুনশ্চ, সুরবিতান ও ভৈরবের শিল্পীরা। গানে গানে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ৫ দিনের কর্মসূচি শুরু করে জাতীয় শিশু-কিশোর ও যুব কল্যাণ সংগঠন চাঁদের হাট যশোর। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও একুশ স্মরণে ২১ জন বরেণ্য চিত্রশিল্পীর অংশগ্রহণে আর্ট ক্যাম্পের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচি। আট ক্যাম্পের চিত্রশিল্পীদের আঁকা ছবি যশোর শিল্পকলার আর্ট গ্যালারিতে আয়োজন করা হয় ৫ দিনের চিত্র প্রদর্শনী। আর গত সোমবার শহীদ মিনার চত্বর আল্পনার রঙে আঁকা হয়।

Comments (0)

Your email address will not be published. Required fields are marked *