বেনাপোল প্রতিনিধি: প্রায় সময়েই ভারতের যাতায়াত পাসপোর্ট যাত্রীদের অভিযোগের তীর ছিল দালাল ও কুলি দ্বারা নিগৃহীত হওয়ার।
বিষয়টি নিয়ে সংবাদ শিরোনাম হয়েছে মাঝে মধ্যে। আর সেই সংবাদের শিরোনামের পরিপ্রেক্ষিতে কাস্টমস, বন্দর ও ইমিগ্রেশন পুলিশ নড়েচড়ে বসেছেন। এরপর যৌথ বৈঠকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনে দালাল ও কুলি মুক্ত করার।
এক পর্যায়ে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের শুরু থেকেই বহিরাগত দালাল ও কুলিদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
তবে এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে আন্তর্জাতিক কাস্টমস ইমিগ্রেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার সদস্যরা। অভিযোগ উঠেছে আনসার সদস্যরা বিভিন্ন ভাবে প্রতিদিন পাসপোর্ট যাত্রীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে এবং নিয়মনীতি উপেক্ষা করে মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তারা পাসপোর্ট যাত্রীদের নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা কামাই করছে।
বৃহস্পতিবার সরোজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভারত গমনাগমনকারী পাসপোর্ট যাত্রী হয়রানি বন্ধে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে পাসপোর্টযাত্রী ছাড়া কোন ব্যাক্তিকে কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন টার্মিনালে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।
ভারত থেকে ফেরা একাধিক পাসপোর্ট যাত্রী জানিয়েছে, বেনাপোল আন্তর্জাতিক কাস্টম ইমিগ্রেশন থেকে দালাল ও কুলি মুক্ত করায় কোন রকম হয়রানি ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে দেশে ফিরতে পেরেছি। এ উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য কাস্টমস কর্মকর্তাদের অনেক অনেক ধন্যবাদ ও জানিয়েছে অনেকে পাসপোর্ট যাত্রী। তবে এটা কত দিন থাকবে সে বিষয়ে নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে অনেকে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল রশীদ মিয়া বলেন, আমি এখানে যোগদানের পর পরই এই ইমিগ্রেশনের ভিতরে অনেক অনিয়মের বিষয়টি জানতে পারি। এরপরই আমি কাস্টমস কমিশনের সঙ্গে ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন কে দালাল মুক্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করি। এক পর্যায়ে যৌথ বৈঠক মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। গত পহেলা জুন থেকে ইমিগ্রেশন চত্বরে সব ধরনের দালাল ও কুলি মুক্ত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে ইমিগ্রেশনের ভিতর দায়িত্বরত আনসারদের বিরুদ্ধে যদি কোন রকমের অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
বেনাপোল আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ রাজু বলেন, পাসপোর্ট যাত্রীদের দ্রুত সেবা দেওয়ার জন্য ইমিগ্রেশনের ডেক্স বাড়ানো হয়েছে। তাছাড়া প্রতিবন্ধী মুক্তিযোদ্ধা ও রোগীদের জন্য আলাদা ডেস্ক খোলা হয়েছে। বেনাপোল কাস্টমস ও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে কাস্টমসের ভেতর থেকে সব ধরনের দালাল ও কুলিদেরকে বিতাড়ত করা হয়েছে। এর ফলে স্বাচ্ছন্দে পাসপোর্ট যাত্রীরা ভারতের যাতায়াত করতে পারছে। তবে আনসার সদস্যদের কে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কোনরকম অনিয়ম করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।