নাটোরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৭, আহত ২০

নিউজটি শেয়ার লাইক দিন

নাটোর সংবাদদাতা: নাটোরের বড়াইগ্রামে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৭ ।  এ সময় আহত হয়েছেন আরও ২০ জন। শনিবার (০৭ মে) সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী রেঞ্জের সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম জানান, দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে শিশুসহ দুইজন নারী ও পাঁচজন পুরুষ রয়েছে। তাদের সবার পরিচয় পাওয়া গেছে।

তারা হলেন- নাটোর সদর উপজেলার পাইকের দোল গ্রামের শাহজাহান আলীর মেয়ে সাদিয়া খাতুন (১২) ও ছেলে কাওসার আহমেদ (১৮), লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের স্ত্রী মোহনা আক্তার মিলি (২৫) ও চাঁপাইনবাগঞ্জের মশিউর রহমান (২৫), টাঙ্গাইলের ভানু প্রামাণিকের ছেলে জলিল (২৫), মাগুরার মিজানুর রহমান (৩০) ও নাটোর সদর উপজেলার আলমগীর হোসেন (৪৮)।

নিহতদের মধ্যে সাদিয়া ও কাওসার আহমেদ সিয়াম পরিবহনের যাত্রী ছিল। তাদের মা ওই বাসে ছিলেন এবং অক্ষত আছেন। কাওসার আহমেদ উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছিল। মোহনা আক্তার মিলি ও মশিউর রহমান ন্যাশনাল ট্রাভেলের যাত্রী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাটিকুমরুল-বনপাড়া-ঢাকা আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার মহিষভাঙা এলাকায় ‘গাজী অটো রাইস মিলের’ সামনে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী ন্যাশনাল পরিবহনের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা সিয়াম পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় ন্যাশনাল পরিবহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই মিলের সামনে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অপর একটি ট্রাককে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাস ও ট্রাক উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ৬ জন নিহত হন। পার্শ্ববর্তী একটি ক্লিনিকে নেওয়ার পর আরও এক যাত্রী মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারিয়ম খাতুন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান বলেন, সকাল দশটার দিকে স্থানের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে নাটোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদেরকে হাসপাতলে ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করছে চিকিৎসকরা। তবে তাদের ভিতরে নিহত সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

 

Comments (0)

Your email address will not be published. Required fields are marked *