নিজস্ব প্রতিনিধি: যশোরে একটি মানব পাচার মামলার সূত্র ধরে পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর সদস্যরা মানব পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন। মানব পাচারের ৪ কোটি টাকা দুই নারীর ব্যাংকে ব্যাংকে গচ্ছিতর তথ্যের সন্ধান পেয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এ অঞ্চলে চাঞ্চল্যকর তৈরি হয়েছে।
এ ঘটনা ইতোমধ্যে মানব পাচার চক্রের হোতা রকিবুল ইসলাম ফরাজি ও দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই দুই নারী সদস্যের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এক মাসে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। একাউন্ট দুটি সাময়িকভাবে ফ্রিজ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রোববার রাতে যশোরে পিবিআই-এর পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন জানান, নড়াইলে করা মানব পাচার মামলার তদন্তে চক্রের অন্যতম হোতা রকিবুল ফরাজির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
প্রবাসজীবন শেষে তিনি দেশে ফেরেন। লিবিয়ায় অবস্থানকালে তিনি মানব পাচার সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মানব পাচার করে এবং বিদেশে জিম্মি ও মুক্তিপণের মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। মামলার সূত্র ধরে শনিবার নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সাতবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল গফুর ফরাজির ছেলে রকিবুল ফরাজি, যশোরের অভয়নগর উপজেলার ধুলগ্রামের আরশাদ আলীর স্ত্রী হাফিজা বেগম এবং হাফিজা বেগমের দুই মেয়ে শিরিনা আক্তার ও সুমনা আক্তারকে পিবিআই গ্রেফতার করে।
সূত্র আরো জানায়, এ বছর ১১ ফেব্রুয়ারি কালিয়া উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম মৃধার ছেলে নাইম মৃধা ও তার ভাগনে জহিরুল ইসলাম বৈধভাবে লিবিয়ায় যান। এরপর রবিউল মৃধাকে এক ব্যক্তি ফোন করে জানান, তার ছেলে ও ভাগনেকে নিরাপদে ইতালিতে পাঠিয়ে দেবে বলে আশ্বস্ত করেন। অজ্ঞাত ব্যক্তির আশ্বাসে তিনি অনীহা প্রকাশ করেন। এর ৫-৬ দিন পর লিবিয়া থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার মোবাইল ফোনে জানায়, তার ছেলে ও ভাগনেকে অপহরণ করা হয়েছে। দুজনকে বাঁচাতে হলে তাদের দেওয়া বিকাশ নম্বর এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে হবে। অন্যথায় তাদের খুন করা হবে। এরপর বিভিন্ন তারিখে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে তিনি ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা দেন। এরপরও ছেলে ও ভাগনের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনার পরিপ্র্রেক্ষিতে রবিউল নড়াইল মানব পাচার প্রতিরোধ দমন ট্রাইব্যুনালে ২২ মে মামলা করেন। এসআই হাবিবুর রহমান মামলার তদন্ত করতে গিয়ে অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই-এর এসআই হাবিবুর রহমান জানান, রবিউল মৃধার ছেলে ও ভাগনেকে অপহরণের সময় রকিবুল ফরাজি লিবিয়ায় ছিলেন। ঈদুল-আজহার আগে তিনি দেশে ফেরেন। নাইম ও জহিরুলকে অপহরণের পর যে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছিল, সেটির সূত্র ধরে তদন্ত করা হয়। গ্রেফতার হাফিজা ও শিরিনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ওই টাকা পাঠানো হয়েছিল। তাদের দুই অ্যাকাউন্টে মার্চে ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে হাফিজার অ্যাকাউন্টে ২ কোটি ২৪ লাখ এবং শিরিনার অ্যাকাউন্টে ২ কোটি ৮ লাখ টাকা ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাফিজা ও শিরিনা স্বীকার করেছেন ওই টাকা রকিবুল ফরাজির। তাদের অ্যাকাউন্টে আসা টাকা তারা রকিবুলের অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন।
শনিবার অভিযুক্ত চারজনকে নড়াইল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমলি আদালত-২-এ সোপর্দ করা হয়। ১৬৪ ধারায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এদিকে রকিবুলের সাতদিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে। রিমান্ডের পর আরো নতুন নতুন তথ্য জানা যাবে বলে জানিয়েছে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাবিবুর রহমান।