স্টাফ রিপোর্টার: যশোরের কেশবপুরে যুদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধা কেশবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্জ কাজী রফিকুল ইসলাম কে লাঞ্জিতের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
শনিবার (৪ই ডিসেম্বর ২০২২) বেলা ১১ টায় প্রেসক্লাব যশোরের কনফারেন্স রুমে কেশবপুর মুক্তিযাদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের পক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত অভিযোগে আলহাজ্জ কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, মুক্তিযুদ্ধের ৫২ বছর পর এসে ৭৬ বছর বয়সে অবতীর্ণ হয়েছি। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছি। কখনো চিন্তাই করিনি সেই মুক্তিযোদ্ধাদের উপর অমানবিক সন্ত্রাসী হামলা হবে ও অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুনতে হবে সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে।
গত ১লা ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে কেশবপুরের নিজ কার্যালয় থেকে বের হয়ে গাড়ীতে উঠার সময়ে বেলা ১.৪০ মিনিটে সন্ত্রাসী ও দূর্নীতি বাজ কেশবপুরের বারুইহাটি গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকীর ছেলে আলমগীর সিদ্দিকি টিটু, ২০ থেকে ২৫ জন সন্ত্রসী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত ভাবে আমার উপর হামলা করে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মা-বোন তুলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও আমার এবং আমার সন্তানদের প্রান নাশের হুমকী দেয়। আমার আত্ম চিৎকারে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন ঘটনা স্থলে এসে সন্ত্রাসীদেরকে উপজেলা পরিষদ চত্তর থেকে বের করে দেন এবং আমার জীবন রক্ষা করেন । এ ঘটনায় ঐ দিনই কেশবপুর থানায় হাজির হয়ে সন্ত্রাসী আলমগীর সিদ্দিকি টিটু (৫০), জামাল (৫০), মাসুদ(৩৫), মাহাবুর(৩৫), ইকরামুল (৩৫), রাজিব খান (৩৫),আরিফ হোসেন (৩৫),শামিম (২৫) ও অন্যন্য সন্ত্রাসীদের নামে সাধারণ ডায়েরি ডায়ার করি। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর তারা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ঐদিন সন্ধ্যায় আমাকেও আমার পরিবারকে মারধরের লক্ষ্যে আলমগীর সিদ্দিকী টিটু তার সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে থানার সামনেও বাজারে মহড়া দেয়। সন্ত্রাসীদের এমন কার্যকলাপের কারণে আমি ও আমার পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তাই সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি প্রশাসন ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তরূপ কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মোঃ গোলাম মোস্তফা, গাজী আরমান, শেখ আব্দুর রাজ্জাক, বজলুর রশিদ রনি, মোঃ আব্দুল মালেক, আব্দুল সাত্তার, মোঃ গোলাম রসুল, নুর ইসলাম খোকনসহ আরো অনেকে।
বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত আলমগীর সিদ্দিকী টিটুর মুঠোফোনের সংযোগ দিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেশবপুরে যুদ্ধাহত মুক্তিযুদ্ধা উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্জ কাজী রফিকুল ইসলাম ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দলের দলের পদপদবী দখল করে রেখেছেন। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন বটে তবে সব সময় নৌকার বিপরীতে গিয়ে কাজ করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে যেয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাকে জুতা দিয়ে মারতে উদ্ধত হন। এরপর আমি তাকে বেশি-কম কিছু কথা বলেছি বলে তিনি স্বীকার করেন ।