ভারতে মুসলিম প্রতিমন্ত্রীর উপর বোমা হামলা

নিউজটি শেয়ার লাইক দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুর্শিদাবাদের নিমতিতা স্টেশনের মধ্যে রাজ্য সরকারের শ্রম দফতরের মুসলিম প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনকে লক্ষ্য করে বোমা ছুড়েছে দুষ্কৃতীরা। এ ঘটনায় মন্ত্রী ছাড়াও জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

কলকাতায় যাওয়ার জন্য ট্রেন ধরতে স্টেশনে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় এ ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে মুর্শিদাবাদের নিমতিতা স্টেশনের সংলগ্ন এলাকায় মন্ত্রীর ওপর বোমা হামলা চালায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা। প্রাথমিকভাবে মন্ত্রীকে জঙ্গিপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জাকিরের বাঁ পা এবং ডান হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। এক হাতে প্লাস্টার করা হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাতেই তাকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেয়া হয়। সেইমতো রাতেই কলকাতার দিকে রওনা দেয় মন্ত্রীর অ্যাম্বুল্যান্স। জাকিরের সঙ্গে চিকিৎসক এবং নার্সের পাশাপাশি তিনজন স্বাস্থ্যকর্মীও ছিলেন। ভোর ৪টা ৪৫ মিনিটে এসএসকেএমে পৌঁছায় অ্যাম্বুলেন্স। আপাতত ট্রমা কেয়ার ইউনিটে মন্ত্রীর চিকিৎসা চলছে।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, সকাল ৬ টা ১০ মিনিটে এক্স-রে হয়েছে মন্ত্রীর। তার ত্বক এবং কোষে আঘাত আছে। হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তবে হাঁটুতে স্প্লিন্টার বিঁধে আছে। সকাল ১০টা নাগাদ তার অস্ত্রোপচার করা হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়েছে। তবে তার জ্ঞান আছে। কথাও বলছেন। হামলার প্রাথমিক ট্রমা কাটিয়ে উঠেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, আপাতত বিপদমুক্ত মন্ত্রী। তার শারীরিক অবস্থাও স্থিতিশীল আছে। কাটিয়ে উঠেছেন ট্রমাও।

মন্ত্রীর পাশাপাশি দেহরক্ষী সুজন বিশ্বাসকেও এসএসকেএম হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার শরীরে স্প্লিন্টারের আঘাতের মাত্রা বেশি। মন্ত্রীর মতোই বৃহস্পতিবার তারও অস্ত্রোপচার করা হবে। আরও যে ১৪ জনের মতো আহত হয়েছিলেন, তাদের কয়েকজন অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

তৃণমূলের মুর্শিদাবাদ জেলার সভাপতি আবু তাহের খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। জেলার পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে দেখার কথা বলেছি। বিকাল অবধিও তিনি আমাদের সঙ্গে ছিলেন। তারপরে এই ঘটনা।”

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরি বলেছেন, ‘গোরু পাচার নিয়ে বার বার দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন তিনি। তিনি অন্য ঘরানার মানুষ। সততার সঙ্গেই তিনি রাজনীতি করেন।” বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, আইনশৃঙ্খলা সব উঠে গিয়েছে রাজ্য থেকে। খুবই নিন্দনীয় ঘটনা। সাধারণ মানুষের কী হবে, যদি একজন মন্ত্রীর এই অবস্থা হয়।”

জাকির মুর্শিদাবাদ থেকে বিজয়ী বিধায়ক। জাকির হোসেনের অনুগামীরা জানিয়েছেন, বুধবার রাতে কলকাতা যাওয়ার কথা ছিল তার। সেজন্য ট্রেন ধরতে নিমতিতা স্টেশনে যান। সঙ্গে অনেকেই ছিলেন। স্টেশনের দুনম্বর প্ল্যাটফর্মে ঢুকতেই তাকে লক্ষ্য করে বোমা ছোঁড়েন দুষ্কৃতীরা। বোমার আঘাতে আহত হন মন্ত্রী।

জেলা জুড়ে কান পাতলেই শোনা যায়, গরু পাচার বন্ধ করতে একাধিকবার ঝামেলায় পড়তে হয়েছে তাকে। কয়েক বছর আগে গরু পাচার নিয়ে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে মুখ খোলায় দলের রোষানলে পড়তে হয়েছ তাকে। তাঁর অভিযোগ ছিল, অবাধে পুলিশ-বিএসএফের মদতে বাংলাদেশে গরু পাচার হচ্ছে। এসবের প্রতিবাদ করায় তাকে পাচারকারীরা খুনের হুমকি দিয়েছিল বলেও রঘুনাথগঞ্জ থানায় অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

এই ঘটনার নেপথ্যে কারা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। দলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই টার্গেট ছিলেন জাকির। এলাকার কিছু ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিবাদ ছিল তার। আবার একাংশের মতে, দলের কয়েকজনের সঙ্গেও বিবাদ ছিল তার। ফলে এখনই স্পষ্ট নয় ঘটনায় কারা জড়িত। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Comments (0)

Your email address will not be published. Required fields are marked *